যশোরে আইনজীবীর স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:০০
যশোরের সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডহেরপাড়া গ্রামে সোনিয়া বেগম (৩০) নামে এক আইনজীবী-পত্নীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোনিয়ার পরিবারের অভিযোগ, পরনারীর সঙ্গে স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় শনিবার সন্ধ্যায় তাকে খুন করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে স্বামী অ্যাডভোকেট আমির হোসেনের দাবি, বাবার বাড়ি নিয়ে না যাওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন তার স্ত্রী।
কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, সোনিয়ার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় লেবুতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল হালিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে অ্যাডভোকেট আমিরের স্বভাব-চরিত্র নিয়ে আগে থেকেই নানা অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
সোনিয়ার মামা সাইফুল ইসলাম ও চাচা আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন, অ্যাডভোকেট আমির হোসেনের সঙ্গে সোনিয়ার বিয়ে হয় মাস ছয়েক আগে। বিয়ের পর তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে আমির পরনারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বিষয়টি দেখে সোনিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে নির্যাতন শুরু করে আমির। এ নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ফের তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করলে সোনিয়ার মৃত্যু হয়। তখন মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়।
সোনিয়ার বাবা লেবুতলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে খুন করার পর স্থানীয় একজন নারী ইউপি সদস্য আমিরের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।
স্থানীয় পুরুষ ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন বলেন, অ্যাডভোকেট আমির একাধিক বিয়ে করেছেন। নির্যাতনের কারণে এর আগেও তার এক স্ত্রী চলে গেছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি বলেন, স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিন্দুমাত্র অবনতি ছিল না। শুধু ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে নিয়ে যেতে না পারায় আত্মহত্যা করেন স্ত্রী। ঘটনার মিনিট বিশেক আগেও স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। এরপর বাড়ি ফিরে দেখেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এর আগে নুরুন্নাহার রানু নামে এক যৌনকর্মী অ্যাডভোকেট আমির হোসেনকে স্বামী দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতসহ নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা করেন। সে সময় আমিরকে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে এক বছরের জন্য বরখাস্ত ও আদালত চত্বরে নিষিদ্ধ করা হয়।
- বিষয় :
- যশোর