ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

বগুড়ায় নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১
×

ছবি: সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রথমে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত শিল্পী খাতুন (৪০) বগুড়া সদরের গোকুল পলাশবাড়ী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে।

জানা যায়, ওই গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে রাফিউল ইসলাম বছর খানেক আগে শিল্পী বেগমকে গোপনে বিয়ে করেন। তারা দু'জনই গোকুল এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে তারা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কয়েকদিন ধরে রাফিউল বাসা থেকে কাজের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফেরেননি। এমনকি মোবাইল ফোনও বন্ধ করে রাখেন। ১০-১২ দিন পর শনিবার শিল্পী রাফিউলের বাড়ি অনন্তবালা গ্রামে যান। এরপর রাফিউল ও তার পরিবারের লোকজন শিল্পীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় রাফিউলও বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশে জমিতে যান। একপর্যায়ে স্বামীকে খুঁজতে শিল্পী সেখানে গেলে জমির ভেতরে থাকা খুঁটিতে বেঁধে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এরপর উল্টো শিল্পীকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে কপির ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ এনে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে থানায় সোপর্দ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, কপি ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে শিল্পী নামে এক নারীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আর কিছু জানি না।

এদিকে পুলিশ ওই নারীকে বিচারের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যায়। কিন্তু বিচারক তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেয়ে বরং ওই নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ ছিল না ওই নারীর বিরুদ্ধে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি ওই নারী। তার পরও মামলা দেওয়ার জন্য তাকে খুঁজে বের করা হয়। ওই নারীর সৎভাই মামুন হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে বাদী করে রোববার দুপুরে মামলা করা হয়। মামলায় রাফিউল ইসলামকে প্রধানসহ অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। শাফিউল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×