শিগগিরই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
ছবি- সমকাল প্রতিনিধি
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ২০:১৬
অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগিরই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সোমবার সকালে বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গণে উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সাধন শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আক্তার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইলিশ একটি মাইগ্রেটরি মাছ। এটি সমুদ্র থেকে নদীতে আসে এবং আবার সাগরে ফিরে যায়। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জাটকা নিধন। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান চালালেও জাটকা শিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি।
ফরিদা আক্তার বলেন, ‘ইলিশ উৎপাদন কমছে, এতে প্রাকৃতিক কারণও রয়েছে। নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, মেঘনা নদীর অববাহিকায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি না হলে ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে পারে না। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণ ও তথাকথিত উন্নয়নের কারণে নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘শীঘ্রই ঢাকায় একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নদী থেকে মাছ ধরে হাত বদলের সিন্ডিকেট বন্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে মাছ পাবে এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘উপকূল এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা গবেষণায় দেখেছি এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নির্মিত হচ্ছে। আমাদের দেশে গরু, ছাগল ও মহিষ পালন মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষার জন্য জরুরি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘চারণভূমি বিষয়ে আমরা দেখছি যে, অনেক কিছু পরিকল্পনার কারণে মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে সঠিক নীতি ও ব্যবস্থা নিলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’
এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জিজেইউএস নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. ওমর ফারুক।
- বিষয় :
- জাটকা ইলিশ
