বেলার আলোচনা সভায় বক্তারা
ফরমায়েশি সমীক্ষায় করা প্রকল্প মানুষের কাজে আসছে না
অপরিকল্পিত বিভিন্ন প্রকল্পের সিটি করপোরেশন ও সিডিএর কড়া সমালোচনায় পরিবেশ আইনবিদ সমিতি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ২০:৩৬
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফরমায়েশি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পগুলো মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সোমবার নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য জেরিনা হোসেন।
তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বর্তমান প্রজন্মের মতো ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভুগবে। একটি বাসযোগ্য নগরের সঙ্গে মানুষের শরীর, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্যও জড়িত।’
‘চট্টগ্রাম মহানগরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের জন্য ১৯৬১, ১৯৬৫ ও ১৯৯৫ সালে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে আরেকটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কেউ মহাপরিকল্পনার সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে ওঠেনি চট্টগ্রাম। নগরীর উন্নয়নে সিডিএ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এসব প্রকল্প তৈরির আগে তারা মহাপরিকল্পনা পড়েনি। পড়ার প্রয়োজনও মনে করেনি। খোদ সিডিএ নিজেই অপরিকল্পিতভাবে অনেক কাজ করেছে।’
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই কোনো সংস্থার কাছে। জনসংখ্যার তথ্যই যদি ঠিকঠাকভাবে নির্ণয় করা না যায়, তাহলে পরিকল্পনা করা হবে কীভাবে? আর পরিকল্পিত নগর গড়ার যেসব কারিগরি বিষয় রয়েছে তা যদি পেশাজীবীদের দিয়ে না করিয়ে অপেশাদার লোকজনকে দিয়ে করানো হয়, তাহলে সুফল পাওয়া যাবে না। চট্টগ্রামের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাই হচ্ছে।’
পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, ‘যদি প্রতিদিন এক লাখ গাড়ি চলাচল করে, তাহলে সেসব সড়কে উড়াল সড়ক নির্মাণ করা যাবে। কিন্তু লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এই পরিমাণ গাড়ি চলাচল না করা সত্ত্বেও সেখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করেছে সিডিএ। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে তার বৈধতা দিয়েছে চুয়েট। এই যে একের পর এক অপরিকল্পিত কাজ হচ্ছে, তার দায় শিক্ষিত মানুষকেই নিতে হবে।’
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘মহাপরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য সেবা সংস্থাগুলোর অজ্ঞতা, অক্ষমতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার অভাব দায়ী। পরিকল্পিত নগর গড়তে হলে সব সেবা সংস্থাকে এক ছাতার নিচে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনতে হবে।’
চট্টগ্রামের নগরায়ণ নিয়ে আয়োজিত এ সভায় সিটি করপোরেশন ও সিডিএর প্রতিনিধি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। অবশ্য শেষ পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান যোগ দিয়েছিলেন। তিনি সভার প্রস্তাবনাগুলো সিটি করপোরেশনকে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিক হায়দারের সভাপতিত্বে এবং বেলার প্রোগ্রাম ও ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর এ এম এম মামুনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বেলার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক মনিরা পারভীন। আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া, চুয়েটের পুরকৌশল ও পরিবেশ প্রকৌশল অনুষদের ডিন আসিফুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবরিনা সুলতানা, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া মুমতাহীনা, মেয়রের জলাবদ্ধতাবিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ ও আলীউর রহমান।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
