ছেলের মারপিট আর সইতে পারছেন না বৃদ্ধ জহির
নির্যাতিত জহিরুল ইসলাম
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২০ | ১০:০৬
দুই ছেলে আর চার মেয়েকে মানুষ করার পাশাপাশি বৃদ্ধ জহিরুল ইসলাম সারাজীবনের ঘাম ঝরানো টাকায় ৫ কাঠা জমি কিনেছিলেন। স্ত্রী আর ছেলে-মেয়ের জন্য ওই জমিতে ছোট্ট একটি বাড়িও তৈরি করেন তিনি। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই বাড়িতে থাকার সুযোগ হলো না জহিরের। বৃদ্ধ বাবাকে বেদম পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বড় ছেলে একরামুল হক সেলিম। জহির আশ্রয় নিয়েছেন তার মেয়ে মর্জিনার ভাড়া বাসায়।
এবার ওই জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য জহিরকে নানাভাবেই চাপ দিতে থাকেন সেলিম। এক পর্যায়ে বোনের বাড়িতে গিয়েই সেলিম সত্তর বছর বয়সী বাবাকে প্রকাশ্যে পেটাতে থাকেন। ছেলের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন জহির। এ ঘটনায় ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও করেন তিনি। মামলা করার পর গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকার প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ওই জমি নিজের নামে নেওয়ার জন্য সেলিম আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন।
ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার জহিরুল ইসলাম বলেন, একবার নয়, এই জমিটুকু নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তারই সন্তান সেলিম বহুবার তাকে মারপিট করেছে। ওর মা সুফিয়া খাতুনও রক্ষা পায়নি। বৃদ্ধা মাকে যে কতবার মেরেছে তার হিসাব নেই।
তিনি বলেন, ছেলের অত্যাচার সইতে সাইতে বছর দুইয়েক আগে সে চলেই গেছে।
জানা যায়, জহিরুল ইসলাম সোনারগাঁও হোটেলে ব্রয়লার অপারেটর হিসেবে টানা ২৭ বছর চাকরি করেছেন। তার ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। বড় একটা সংসার চালানোর পাশাপাশি ৫ কাঠা জমি কিনেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ওই জমির জন্য ছেলে হাতে বারবার মার খেতে হচ্ছে উল্লেখ করে জহির বলেন, ছেলের অত্যাচর সইতে না পেরে এক পর্যায়ে মেয়ের কাছে চলে আসেন তিনি। গত মাসের ৯ তারিখেও তাকে প্রকাশ্যে দাড়িতে ধরে বেদম পিটিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি গাছা থানায় মামলাও করেছেন। শুধু তাই নয়, একবার তাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করার পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। গত ১৩ জুলাই মেয়ে মর্জিনার বাড়িতে গিয়ে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে সেলিম। এক পর্যায়ে জহিরকে সেখানেই মাটিতে ফেলে পেটায় ছেলে। এ ঘটনায় পুনরায় গাছা থানায় একটি এজাহার দেন জহিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সেলিম ও তার সহোদর আনোয়ার দু’জনে মিলে ওই জমি লিখে নিতে চায়। তার চার মেয়েকে তিনি বঞ্চিত করতে চান না। সর্বশেষ জমিটা প্রায় অর্ধকোটি টাকায় জহির বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন। এই খবর পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন সেলিম। সোমবার জহির গাছা থানায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন ছেলের বিরুদ্ধে।
জহিরের মেয়ে মর্জিনা বলেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন বাবা। শুধু বাবাকে পিটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, আমাকেও মারপিট করা হয়েছে।
জহিরুলে অভিযুক্ত ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না। অন্যদিকে পলাতক সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, বৃদ্ধ বয়সের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে জহিরুলের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন তার ছেলে। অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।