ফটিকছড়িতে অপবাদ ছড়িয়ে নির্যাতন
৬ দিন পর মা ডেকেছে মানিক ও রাহাত
ট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘মব’ করে গণপিটুনিতে আহত মানিক ও রাহাতকে এখনও শঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা। ঘটনার এতদিন পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি তাদের। চমেক হাসপাতালে রাহাত (বাঁয়ে) ও মানিকের পাশে স্বজনরা। গত সোমবার তোলা ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ | ০২:২০
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছয় দিন ধরে নির্ঘুম রাত কাটছে রোজী আক্তার ও রোজিনা আক্তারের। তাদের ছেলে মো. মানিক ও ফারহান তানভীর রাহাত সেখানে ভর্তি।
গত শুক্রবার ফটিকছড়ি উপজেলায় চোর অপবাদ দিয়ে তাদের সেতুর ওপরে বেঁধে মারধর করে স্থানীয় একদল লোক। সেই থেকে তারা হাসপাতালে। প্রথম তিন দিন দুজন অচেতন ছিল। এ কারণে চরম উদ্বেগে দিন কাটছিল মায়েদের। অবশেষে গতকাল বুধবার তারা কথা বলেছে; দুজনই মাকে ডেকেছে। ছেলেদের মুখে ডাক শুনে স্বস্তি ফিরেছে দুই মায়ের।
রাহাতের মা রোজী আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে মা ডেকেছে, কথাও বলেছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! এখন তার মধ্যে কথা বলার এক ধরনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি হাত-পা নাড়াতেও চাইছে। পুরোপুরি সুস্থভাবে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।’ মানিকের ডাক শুনে তার মা রোজিনা আক্তারও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
শুক্রবার ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের চেইঙ্গার ব্রিজের রেলিংয়ে বেঁধে তিন কিশোরকে মারধর করা হয়। চোর অপবাদ দিয়ে দফায় দফায় তাদের পেটানোর এক পর্যায়ে ঝুলিয়ে পুরো শরীরে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাস্থলেই রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫) মারা যায়। এর পরও মানিক ও রাহাতকে ছাড়েনি তারা। পরে দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের রাহাতকে দেখতে আসেন মামা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘রাহাতের শারীরিক অবস্থার উন্নতি খুশির সংবাদ। তবে দুর্ভাগ্য, ঘটনার এতদিন পরও মূল আসামি নাজিম উদ্দিনসহ জড়িতদের অনেককেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’
আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাজিম উদ্দিন যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আমরা অবহিত করেছি। সব আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- চমেক
