নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নাচুনমহুরী গ্রামে সোমেশ্বরী নদীর শাখায় বাঁধ সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ০১:০৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ১২:৫৪
সোমেশ্বরী নদীর শাখায় বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নাচুনমহুরী গ্রামে।
এ গ্রামের নফল উদ্দিনের দুই ছেলে নওফেল মিয়া ও তাঁর ভাই নজরুল মিয়া তাদের বাড়ির সামনে নদী দখল করে দেয়াল নির্মাণ করে প্রায় ১৫ বছর ধরে মাছ শিকার করছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে চাষাবাদে সুফল ভোগ করেন তারা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের শতাধিক কৃষক। বর্ষাকালে আমনক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। জমিতে পানি জমে থাকায় বোরো মৌসুমেও চাষাবাদ করতে পারেন না কৃষক। পানি আটকে ইচ্ছেমতো ছেড়ে দেওয়ায় ভাটি এলাকার ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জানান, যেখানে দেয়াল নির্মাণ করেছেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত জমি। সেখানে কোনো নদী ছিল না। নকশা তুলে দেখা গেছে, ১০০ গজ সামনে দিয়ে শত বছর আগে একটি নদী ছিল।
কথা হয় স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের, জাহান আলীসহ কয়েকজনের সঙ্গে। আব্দুল কাদেরের ভাষ্য, দেড় একর জমিতে ১৫ বছর ধরে কোনো ফসল চাষ করতে পারছেন না তিনি। সবসময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে জমিটি। নওফেল ও নজরুল নদীতে দেয়াল নির্মাণ করেছেন, স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। একই ধরনের অভিযোগ করেন জাহান আলী ও ফেরদৌস। তাদের ফসলি জমি প্রায় সাত একর।
তাদের মতো অন্যান্য কৃষকের দাবি, পানি জমে থাকায় গ্রামের তিন শতাধিক একর জমিতে বোরো, আমন ও সবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ১৫ বছর ধরে শতাধিক কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নওফেল মিয়া। তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। বাঁধ দেওয়াতে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এর আগে দুবার আদালত ও পুলিশে অভিযোগ করা হয়, তা নিষ্পত্তি হয়েছে। যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, সেই জমি তাঁর। রেকর্ড, আরওয়ার, বিআরএসসহ জমির সব কাগজ আছে। এটি কোনো নদী নয়। তিনি উল্টো দাবি করেন, বাঁধের সামনে সরকারি খাল ছিল। এলাকার কৃষকরাই তা ভরে ফেলেছেন। একটু পানি এলেই উপচে পড়ে। যে নদী দাবি করা হচ্ছে, তা তার বাঁধের ১০০ গজ সামনে ছিল। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সবাই পানি নিয়ে চাষাবাদ করেন।
কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতাউর রহমানের ভাষ্য, সুরাহা করার জন্য একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছেন তিনি, কিন্তু নওফেল ও নজরুল কোনোভাবেই সুরাহা করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সরকারি নদী ও খাল দখল করে বাঁধ নির্মাণ করার এখতিয়ার কারও নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
