ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাকৃবিতে ৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

বহিরাগত হামলা ঠেকাতে না পারার তীব্র সমালোচনা 

বাকৃবিতে ৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি
×

ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫৯

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সমন্বিত (বিএসসি ইন ভেট ও এএইচ) ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগতের হামলার ঘটনা ঠেকাতে না পারায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকা একাডেমিক কার্যক্রম এবং হল খুলে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। 

সোমবার দুপুরে এসব বিষয়ে ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশুপালন অনুষদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ছয় দফা সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া চলমান অচলাবস্থা সমাধানে উপাচার্যের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের চার‌টি অনুষ‌দের শিক্ষার্থী প্রতি‌নি‌ধিরা।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতের হামলা এবং সমন্বিত ডিগ্রি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে। আশা করা হচ্ছে, এটি চলমান সংকট সমাধানের সুস্পষ্ট পথনির্দেশ দেবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির প্রথম দফায় গত ৩১ আগস্টের বিশেষ একাডেমিক কাউন্সিলের গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভেটেরিনারি সায়েন্স ও অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি, অ্যানিম্যাল হাজবেন্ড্রি, ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ডিগ্রিগুলোর জন্য পৃথক আসন ব্যবস্থার প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, পেশাগত স্বীকৃতি এবং চাকরির বাজারে ভালো সুযোগ তৈরির জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থীরা তাদের স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় প্রশাসনকে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ওই হামলার ঘটনায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট দুর্বল। হামলায় জড়িত বহিরাগতদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং প্রশাসনকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী শিক্ষকদের শিক্ষাদান ছাড়া অন্যসব প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। 
এ ছাড়া আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীকে একাডেমিক বা প্রশাসনিক কোনো শাস্তি বা জটিলতার সম্মুখীন করা হবে না– এই মর্মে একটি লিখিত প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া আমাদের কাছে পেশ করেছে। তাদের স্মারকলিপিটি আমরা উপাচার্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। দাবির বিষয়গুলো বিচার-বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আড়াই শতাধিক শিক্ষকের সমন্বয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা চলছিল। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ভবনের নিচতলায় তালা দেন। দীর্ঘ আট ঘণ্টা শিক্ষকরা অবরুদ্ধ থাকার পর  ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে কিছু বহিরাগত ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় উভয় অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন

×