ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্ধারিত সূচির আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা

নির্ধারিত সূচির আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা
×

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা অমান্য করে আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বোর্ডের নিয়ম লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা– তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে দেখা যায়, সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে একযোগে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। হঠাৎ করে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বোর্ডের রুটিন ভেঙে আগেভাগে পরীক্ষা নেওয়ায় চরম বিপদে পড়েছে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা।

ওই কেন্দ্রের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘বোর্ডের রুটিন দেখে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যে, ৭ তারিখ থেকে আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হবে। সেই অনুযায়ী আমরা খাতা তৈরি ও রিভিশন দিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে আমাদের ডেকে এনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এত কম সময়ে আমরা কোনো ভালো প্রস্তুতিই নিতে পারিনি।’
এদিকে বোর্ডের দেওয়া স্পষ্ট নির্দেশনা ও রুটিনকে তোয়াক্কা না করে এভাবে আগেভাগেই পরীক্ষা নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা বোর্ডের একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা থাকে। বোর্ড থেকে যে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার সোহেল রানা বলেন, ‘কেন্দ্র সচিব চাইলে তাঁর সুবিধামতো সময়ে আগে পরীক্ষা নিতে পারেন। আমরা ৩ ও ৪ জুন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা নেব। এরপর আবার বোর্ডের দেওয়া নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ৭ তারিখ থেকেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।’
বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেন্দ্র সচিবের এমন একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার আছে কিনা– সে বিষয়ে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (একাডেমিক সুপারভাইজার) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জে.এম.জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। 

দৌলতপুরের ইউএনও ও উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিন্দ্য গুহ বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা 
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন সমকালকে বলেন, কেন্দ্র সচিব যদি 
এমনটা করে থাকেন, তবে তা স্পষ্টত বোর্ডের নিয়মের চরম লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×