ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা, ভোগান্তিতে গ্রাহক

গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা, ভোগান্তিতে গ্রাহক
×

.

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১২

আক্কেলপুরে চার দফা দাবিতে গণছুটিতে গেছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা। কর্মী না থাকায় বিভিন্ন স্থানে বিকল হয়ে পড়া মিটার, ট্রান্সফরমার মেরামত করা যাচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। এ অবস্থায় স্থানীয় বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিজিএম আব্দুর রহমান নিজে মাঠে নেমে জরুরি ত্রুটি মেরামত ও সংযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছেন। 
চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে–আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি, সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে নিয়মিতকরণ, মামলা প্রত্যাহার করে চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত লাইনক্রুদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। 
সরেজমিন দেখা যায়, অফিসের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ কর্মস্থলে নেই। বিদ্যুৎসংক্রান্ত জরুরি সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিস বন্ধ থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারও মিটার নষ্ট, কারও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, অনেকের নতুন সংযোগের কাজ ঝুলে গেছে।

আক্কেলপুর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৫০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এখানে ৬৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রকৌশলী, লাইনম্যানসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ৪৫ থেকে ৫০ জন রোববার থেকে গণছুটিতে আছেন। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে অল্প কিছু জনবল নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিজিএম আব্দুর রহমান নিজেই মাঠে নেমে জরুরি ত্রুটি মেরামত ও সংযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছেন। 

ডিজিএম বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছি। তবে কর্মচারীরা কাজে না ফিরলে পুরো ব্যবস্থাপনা সচল রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গ্রামসহ শহরের হাজিপাড়া মহল্লায় আঠারো ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। ডিজিএম আব্দুর রহমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুত সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। 

আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে। এ সমস্যা সামাধানে তারা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। দাবি মানা দূরের কথা, উল্টো অন্যায়ভাবে বরখাস্ত, বদলি ও চাকরিচ্যুতি করা হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
রফিকুল ইসলাম নামের এক লাইনম্যান বলেন, চাকরির নিরাপত্তা নেই, বেতন-ভাতা কম, আবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। 
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকেরা দুর্ভোগে রয়েছেন। শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন কারখানা, পোলট্রি খামারসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায় ক্ষতি হলেও কার কাছে অভিযোগ দিবেন বুঝতে পারছেন না এমন অভিযোগ ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমানের। 
চামড়া গুদাম এলাকার আফরোজা সুলতানা বলেন, কয়েকদিন ধরে সীমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছিলাম। গত রাতে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। পাম্পে পানি উঠছে না, বাচ্চারা পড়াশোনা করতে পারছে না। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×