ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নামমাত্র কাজে লোপাট টিআর ও কাবিটার সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নামমাত্র কাজে লোপাট টিআর ও কাবিটার সাড়ে ৫ কোটি টাকা
×

ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের রাজারগাঁও এলাকায় টিআর-কাবিটা প্রকল্পের একটি অসম্পূর্ণ রাস্তা। সোমবার তোলা ছবি -সমকাল

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৩

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর-কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, এক ইউপি সদস্যকে ডজনখানেক প্রকল্পের সভাপতি করাসহ নানা অনিয়মে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ছাতক উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিন শতাধিক প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে বেশির ভাগ নামমাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাৎ করেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। 

সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে দুটির বেশি প্রকল্পের সভাপতি না করার বিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য সফিজা বেগমকে ১২টি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়। একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রশীদকে ৫টি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমানকে ৪টি প্রকল্পে সভাপতি করা হয়।

সরেজমিন নোয়ারাই ইউনিয়নে সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের কেবল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৭টি কাজ করছেন ইউপি সদস্য সফিজা বেগম। ইউনিয়নে আরও ৫টি কাজ পেয়েছেন ওই ইউপি সদস্য। প্রকল্পগুলোতে কাগজেকলমে সফিজা বেগমকে সভাপতি হলেও বাস্তবে প্রকল্পগুলো দেখাশোনা করছেন রাজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া নামে এক ব্যক্তি। সিদ্দিকের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের লোকজনের সখ্য রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে মেয়াদ শেষ হলেও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩টি প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়নি। 
বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য সফিজা বেগম বলেন, তাঁর আর্থিক সক্ষমতা নেই। এ কারণে সিদ্দিকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে প্রকল্প কাজগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 
এদিকে একজন ইউপি সদস্যকে এতগুলো প্রকল্পের কাজ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছরে দুটি কাজ পাই না অথচ সফিজা বেগম এত কাজ পেয়েছেন। অনিয়ম-দুর্নীতি করতেই এমনটা করা হয়েছে।’ 

এছাড়াও ছাতক পৌরসভার প্রকল্প এলাকায় বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্পের কাজ সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার শিশুপার্ক উন্নয়নের নামে প্রকল্প নেওয়া হলেও দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি কোনো কাজ। আনসার ক্যাম্পের সামনে মাটি ভরাট ও উপজেলার কামিনী ভবনের পেছনে মাটি ভরাটে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। 
স্থানীয় ঠিকাদার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, টিআর, কাবিটায় অনেক অনিয়ম করেছেন ইউএনও। আগের পিআইওকে টিআর ও কাবিটার বিল নিয়ে মারধর করে বিদায় করেছেন। এসব নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে। 

আরেক ঠিকাদার মো. সানি বলেন, অর্থবছরে সফিজা বেগমকে সভাপতি এবং সিদ্দিকুর রহমানকে প্রকল্প সেক্রেটারি করে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় ২ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পে অনিয়মের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি তিনি। 
এ বিষয়ে ইউএনও তরিকুল ইসলাম বলেন, দু’একজন ইউপি সদস্যকে বাড়তি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। তবে অনিয়ম-দুর্নীতির যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা বেশির ভাগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×