ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন নির্বিকার পরিবেশ অধিদপ্তর

কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন নির্বিকার পরিবেশ অধিদপ্তর
×

রাস্তায় ধুলা, যানবাহনের ধোয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ঝিনাইদহ-মাগুরা-ঢাকা মহাসড়কে - সমকাল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৬

ঝিনাইদহের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নির্গত হচ্ছে কালো ধোঁয়া। যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ দূষণে জনজীবন অতিষ্ঠ হলেও এ বিষয়ে নির্বিকার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর। 

যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে বেশি। সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা বলছেন, জরুরি, বহির্বিভাগ এবং আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নেওয়া ২০ থেকে ২৫ ভাগ রোগীই ধোঁয়া ও ধুলাদূষণের শিকার। 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. কাওসার হামিদ বলেন, বায়ুদূষণ বর্তমানে খুবই শঙ্কার বিষয়। সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন পার্টিকেল, সিসাসহ ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে। কালো ধোঁয়া শরীরে প্রবেশে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এতে নাক, গলা বা ফুসফুসে ক্যান্সারের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়। 
তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ছয় মাসে যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে একটিও অভিযান পরিচালনা করেননি পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। 
বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় তালিকাভুক্ত ছোট-বড় মিলিয়ে দুই হাজার ৩৪১টি গাড়ির ফিটনেস নেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে ৭৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বিআরটিএ কর্মকর্তারা। এতে ৪৮২টি মামলা এবং চালকদের থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।  

গত মঙ্গলবার ও বুধবার ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়ক এবং জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, সড়কে বিপুলসংখ্যক কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহন চলাচল করছে। এসব যানবাহনের মধ্যে ট্রাকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
শহরের পাগলা কানাই মোড়ে রিকশায় বসে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব মোহাম্মদ বাবলু মিয়া। তিনি বলেন, সড়কে চলাচলের সময় যখন ট্রাক ও বাস থেকে কালো ধোঁয়া ছাড়ে তখন খুবই কষ্ট হয়। মাঝে মধ্যে এমন হয় যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।  

অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক সায়েদুল ইসলাম বলেন, যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় শরীরের ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কিন্তু পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের, সেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কোনো অভিযান চোখে পড়ে না। 

যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের দায় বিআরটির ওপর বর্তায় বলে দাবি করে পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান জানান, তারা যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন জব্দে অভিযান পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও দেখে।  
এ বিষয়ে বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক এস এম সবুজ জানান, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মামলা ও জরিমানা করছেন। তবে ধোঁয়া ও বাতাসে দূষণের দিকটা পরিবেশ অধিদপ্তর দেখে। তাদের দূষণ পরিমাপক যন্ত্র ও বিশেষজ্ঞ আছে, যা বিআরটিএর নেই।

আরও পড়ুন

×