আসন পুনর্বহালের দাবি
বাগেরহাটে ফের নির্বাচন অফিস ঘেরাও, পাবনায় বিক্ষোভ
ছবি-সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২৩:১২
বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে দুই দিন বিরতি দিয়ে আবারও জেলা নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও করেছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। রোববার জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নেন তারা। এদিকে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলাকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। ফরিদপুর-৪ আসনের অধীন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বাগেরহাটে নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। কমিটির সদস্য সচিব ও বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেছেন, দুর্গাপূজা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা হরতালের কর্মসূচি বাতিল করেছি। তবে চারটি আসন ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
গত জুলাই মাসে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন নেতাকর্মীরা। ৪ সেপ্টেম্বর শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসন জারি রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
পাবনায় বিক্ষোভ
পাবনা-১ (বেড়া-সাঁথিয়া) আসন থেকে বেড়া উপজেলাকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ দুপুরে উপজেলার কয়েকশ মানুষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় সীমানা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কাছে স্মারকলিপি দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন ছিল। সম্প্রতি আসনটি ভেঙে তিন লাখ ২৩ হাজার ভোটারের সাঁথিয়া উপজেলাকে আলাদা করে পাবনা-১ এবং বেড়া উপজেলাকে পার্শ্ববর্তী পাবনা-২ আসনের সুজানগর উপজেলায় যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি। এ সিন্ধান্ত পুনর্বিবেচনার শান্তিপূর্ণ দাবিতে সাড়া না মেলায় আন্দোলনে নেমেছেন বেড়ার মানুষ।
ভাঙ্গার আন্দোলন স্থগিত
ফরিদপুর-৪ আসনের অধীন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে জুড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রোববার দুপুরে ভাঙ্গায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা আলোচনা করেন। এরপর আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গত মঙ্গলবার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আইন সচিব, নির্বাচন কমিশনসহ চার বিবাদীকে ১০ দিনের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও ভাঙ্গা থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে মামলা হয়েছে। এই মামলায়ও প্রধান আসামি করা হয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে। বাদী উপজেলার সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার আপারেটর সৌমেন্দ্র নাথ সরকার। এ মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলায় নিক্সনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন ভাঙা থানার এসআই আজাদুজ্জামান।
(সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- নির্বাচন অফিস
- ঘেরাও
