ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি

মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি
×

সম্রাট হাসান তুহিন

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৫ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:০৩

আসল নানা মুক্তিযোদ্ধা নন। অথচ নানার বাড়ির এলাকার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সেই কোটায় পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি নিয়েছেন সম্রাট হাসান তুহিন নামে এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি এ তথ্য ফাঁস করেছেন সম্রাটের স্ত্রী হোসনা বেগম। জানা গেছে, এতদিন সব ঠিকঠাক চলছিল। দাম্পত্য কলহের জেরে সম্প্রতি হোসনা স্বামীর গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। হোসনা সম্প্রতি সম্রাটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ময়মনসিংহ সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে তথ্য দেন। তিনি জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি নেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সম্রাট সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের শেখেরগাঁও গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি এখন রাঙামাটির কাউখালী থানায় কর্মরত আছেন।
কাবিননামা অনুযায়ী ২০১৬ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার হেলোচিয়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে হোসনার সঙ্গে সম্রাটের বিয়ে হয়। কিন্তু হোসনা লিখিত অভিযোগে ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও লিখিত অভিযোগে হোসনা বলেন, ২০১৪ সালে সম্রাট পুলিশের কনস্টবেল পদে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানের সময় সম্রাট নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পালগাঁও গ্রামের মৃত ইসাক আলীর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হককে (মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ম ৬২১৮৬) নানা পরিচয় দিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সুনামগঞ্জ নোটারি পাবলিকে হলফনামা তৈরি করে চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা গ্রহণ করেন।

সম্রাট ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ময়মনসিংহ মহানগর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পালগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল হক বলেন, সম্রাট হাসান তুহিন নামে তাঁর কোনো নাতি নেই বা এই নামে কাউকে তিনি চেনেন না। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ চাকরি নিয়েছে। 

সম্রাটের স্ত্রী হোসনা বেগম বলেন, ১০ বছরের সংসার জীবনে তাদের কোনো সন্তান নেই। কারণ তাঁর স্বামী চান না। তিনি অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। তাঁর আসল নানার নাম আব্দুর রশিদ।

অভিযুক্ত সম্রাট হাসান তুহিন বলেন, মো. মঞ্জুরুল হক তাঁর নানা। তিনি (মঞ্জুরুল) তা অস্বীকার করার কথা না। এ ব্যাপারে তাঁর নানার সঙ্গে কথা বলবেন। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো না। 

আরও পড়ুন

×