ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফের প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে মাউশি প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে সংশয়

ফের প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে মাউশি প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে সংশয়
×

.

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪৭

সিরাজগঞ্জের সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ফের তদন্ত শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে অবৈধ কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মোহা. আব্দুর রশিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তে মুখোমুখি হন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সামান আলী শেখ, কামরুজ্জামান, তৈমুর হাসান, তাঁর স্ত্রী লিলি খাতুন ও জাহিদুর রহমান।
অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, আগের তদন্তের তথ্য তাদের কাছে অজানা। এ অবস্থায় কীভাবে সুষ্ঠু ও কার্যকর তদন্ত হবে? তারা বলছেন, একই ঘটনায় বারবার তদন্ত হচ্ছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হয়নি। এটা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া ও প্রশাসনিক উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। তারা মনে করেন, শিক্ষক বদলি, কোচিং বন্ধ এবং প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনা না গেলে এর পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না।
প্রধান শিক্ষক আফসার আলী বলেন, একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো আমি চাপের মুখে আছি।

জানা গেছে, গত জুন মাসে চতুর্থ শ্রেণির ইসলাম ধর্ম বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। ৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন অভিভাবক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম তদন্ত করে প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা পান। অভিযুক্তদের বদলির সুপারিশ করে প্রতিবেদন মাউশিতে পাঠান। দুই মাস পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা অধিদপ্তর। অভিযুক্ত শিক্ষকরা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক কামরুজ্জামানের ‘জামান কোচিং সেন্টার’, তৈমুর স্যার ও লিলি ম্যাডামের কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয়। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা জানান, দ্রুত অভিযুক্তদের অপসারণ, কোচিং সেন্টার বন্ধসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। 

শিক্ষক কামরুজ্জামান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামান কোচিং সেন্টার আমার নয়। শিক্ষক তৈমুর হাসান ও তাঁর স্ত্রী লিলি খাতুন অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেন।
রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগের তদন্ত সম্পর্কে আমি অবগত নই। মাউশি থেকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ এসেছে। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। 
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জাব্বার বলেন, এ ঘটনায় তিনবার তদন্ত হয়েছে। ৫ জন শিক্ষক অভিযুক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ জুনে ইসলাম ধর্মের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত। অভিযুক্তদের বদলি, কোচিং বন্ধ, প্রশ্নপত্র সেট সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন জেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

×