বগুড়ায় বাদীকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৪১ | আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:৫২
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে না জানিয়ে আসামির সঙ্গে আপোষ করায় এক নারীকে মারধর করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ সুপার (এসপি) ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করেছেন।
আহত ওই নারী শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে গাবতলী উপজেলার খুপি গ্রামে।
জানা গেছে, ওই গ্রামের জনৈক জাহিদুল ইসলামের মেয়ে মনিরা খাতুন কেমিকে (২০) একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এমরান হোসেন উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে এমরান ওই মেয়েটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ওই মেয়ে বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর গাবতলী থানায় এমরানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এর পরেরদিন পুলিশ এমরানকে গ্রেফতার করে। এরই এক পর্যায়ে দুইজনের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাদের পরিবার। বিয়েতে দুই পরিবার সম্মত হলে আদালতের মাধ্যমে মামলাটি আপোষ হয়।
গত ৩১ অক্টোবর দুই পক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে বাদীর উপস্থিতিতে আপোষের বিষয়টি আদালতে দাখিল করে এমরানের জামিন প্রার্থনা করা হলে আদালত এমরানের জামিন মঞ্জুর করেন। এমরানের জামিনের পরেরদিন ১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে এমরান ও মনিরার বিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে এ খবর পেয়ে রোববার রাত ১০টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়া সাদা পোষাকে মামলার বাদীর বাড়িতে যান।
বাদী ও তার স্বজনদের অভিযোগ,বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে না জানানোয় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী অভিযোগ করেন, রোববার রাতে তিনি ও তার স্বামী ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। রাত ১০টার দিকে এসআই রিপন মিয়া ঘরের দরজা লাথি দিয়ে ভেঙে ঘরে ঢোকেন। আতঙ্কে তার স্বামী পালিয়ে গেলে রিপন ওই নারীর কাছে জানতে চান, তাকে না জানিয়ে তিনি কেন আসামির সঙ্গে আপোষ করে বিয়ে করেছেন। পরে রিপন তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন।
এসময় ওই উপ-পরিদর্শক তার কাছে টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তার স্বামীকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওই নারীর।
সোমবার বেলা ১টার দিকে গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম হোসেন হাসপাতালে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তিনি মোবাইল ফোনে ওই নারীর বক্তব্য রেকর্ড করেন।
পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বগুড়া
- মারধর
- পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ
- আপোষ