ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সড়কে সাপ্তাহিক হাট, লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট

সড়কে সাপ্তাহিক হাট, লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট
×

 বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লার তিতাসে বাঞ্ছারামপুর-হোমনা-গৌরীপুর সড়কের বাতাকান্দি বাজার এলাকায় সাপ্তাহিক হাটকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতি বুধবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকানপাট বসানোর কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি জরুরি যানবাহন অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এটি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর-হোমনা-গৌরীপুর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মুরাদনগর, মেঘনা, বাঞ্ছারামপুর ও তিতাস উপজেলায় শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা চলাচল করে। বাতাকান্দি বাজারে প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক হাট বসে। ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসানো দোকানপাট থেকে টাকা আদায় করে থাকেন ইজারাদার। ফলে হাটের দিন সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, অল্প সময়েই যানজট লেগে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই হাটের দিন সড়ক দখল করে দোকান বসানো বন্ধ হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

গতকাল বুধবার বাতাকান্দি বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে রাস্তার দুই পাশে অস্থায়ী বিভিন্ন রকম দোকান বসেছে। অনেক দোকান সড়কের ওপরে বসিয়ে বেচাকেনা চলছে। রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে মালপত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন কাঁচামালের দোকান, আলু-পেঁয়াজের দোকান, ফলের দোকান, শরবতের দোকান, বাঁশ-বেতের দোকান। এসব দোকানে ক্রেতাদের চলাফেরা ও রাস্তার ওপর দোকান থাকার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হাটে মালপত্র নিয়ে আসা ও নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন যানবাহন রাস্তার ওপর দাঁড় করে রাখার কারণে তীব্র হচ্ছে যানজট।
স্থানীয়দের দাবি, সাপ্তাহিক হাট নির্ধারিত স্থানে সীমাবদ্ধ রেখে রাস্তা দখলমুক্ত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

একাধিক পথচারী অভিযোগ করেন, রাস্তা দিয়ে চলাচল যেন মহাযুদ্ধের মতো। ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধদের নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর।
মাছিমপুর গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘হাটে আসতে আমাদের সুবিধা হয়, কিন্তু রাস্তায় দোকান বসিয়ে দেওয়ায় ভীষণ ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানজটে।’

বাসযাত্রী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রশাসন চাইলে সহজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
পিকআপ চালক রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হাটের দিন বাতাকান্দি বাজার পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে সময়, জ্বালানি এবং অর্থ– সব দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
দোকানদার আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা হাটে দোকান বসাই জীবিকার জন্য। বাজারে জায়গা না থাকায় অনেক সময় রাস্তায় বসতে হয়। তবে প্রশাসন যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা নিয়ম মেনে বসতে রাজি আছি।’

মাইক্রোবাস চালক আব্দুল কাদের জানান, প্রতি বুধবার বাতাকান্দি বাজার পার হতে গিয়ে তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অল্প একটু রাস্তা পার হতে কখনও কখনও ঘণ্টা লেগে যায়। রোগী নিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সোহেল মিয়ার ভাষ্য, রাস্তায় দোকান বসানোর কারণে গাড়ি চালানো যায় না। ট্রাফিক পুলিশও থাকে না। যাত্রী নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
বাজারের দোকানদার নূরুল হক বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়ে হাটের দিন রাস্তায় দোকান বসাই। ইজারাদারকে টাকা দিয়েই বসতে হয়। জায়গা না থাকলে ব্যবসা করব কোথায়?’
বাতাকান্দি বাজারের ইজারাদার সামির হোসেন জানান, বাজারে পর্যাপ্ত সরকারি জায়গা নেই। যেসব জায়গা আছে বেশির ভাগ জায়গায়ই অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে বিভিন্ন ব্যক্তি। বিশেষ করে হাটের দিনে কাঁচামালের দোকানগুলো বাজারের ভেতর বসতে চায় না। তারা এখানে এসে বসে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা কথা শোনে না, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার বিষয়ে এবং সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি বলেছেন, হাটের দিন রাস্তার পাশে আপাতত বসুক, পরে বিষয়টা দেখবেন। বাজার বসার কারণে যান চলাচলে সমস্যা হয় সেটা আমিও দেখি। তবে অনেক টাকা দিয়ে বাজার ডেকে এনেছি, আমরা কী করতে পারি বলেন।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য, বাজারের কারণে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, এটি সত্যি। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছি ও ইজারাদারকে সতর্ক করেছি। আগেও কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে, প্রয়োজনে  আবারও অভিযান চালানো হবে।’
 

আরও পড়ুন

×