ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস সর্ষের ভেতরেই ছিল ভূত

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস সর্ষের ভেতরেই ছিল ভূত
×

পবিপ্রবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সাইদুর রহমান জুয়েলসহ একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন ফাঁস চক্রে জড়িত ছিলেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।   

২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে একটি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জুয়েলের নেতৃত্বে কিছু কর্মকর্তা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কিছু পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেন। এ সময় জুয়েল তাঁর দায়িত্বে থাকা পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্ন পত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থাকা অপর কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সমাধান করে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার দিন জুয়েলের পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেন্দ্র-২ (প্রশাসনিক), তা সত্ত্বেও জুয়েল তাঁর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে ড. শফিকের নেতৃত্বাধীন একাডেমিক কেন্দ্রে চলে যান। কেন্দ্র-২-এ জুয়েলের স্থলে তাঁর নাম কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
নিয়োগ পরীক্ষার দিন মাধব চন্দ্র শীল হলের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। টিএসসি ভবনের কনফারেন্স রুমের পরিদর্শক হাজিরা সিট তথা সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁর অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশটে এই প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকাল ১০টা ১ মিনিটে সাইদুর রহমান জুয়েলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। প্রশ্নপত্রটি ছিল ‘সুরমা’ সেটের, যার সেট কোড ছিল ৩৬৭১। ফিরতি বার্তায় প্রশ্নের উত্তর সংবলিত একটি ছবিও পাঠানো হয়। 
জুয়েলের বিরুদ্ধে ওই নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াও নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজনকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও আওয়ামী পন্থি এ কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নিয়োগে তাঁর আপন ভাইকে সেকশন অফিসার পদে পদায়ন করা হয়। 

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ অবান্তর ও অসত্য।’ 

পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কেন্দ্র পরিবর্তন করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার কেন্দ্র তো আমি পরিবর্তন করিনি; কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আমাকে অন্য হলে পাঠিয়ে দিয়েছে।’ এ সময় প্রতিবেদকের হাতে থাকা প্রমাণাদির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনেক রাজনীতি চলে; এগুলো রাজনৈতিক উসকানি হতে পারে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীল বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তিনি ডিউটিতে যাননি।’ 
পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা লাইজুর ভাষ্য, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। এ রকম একটি ঘটনার পর তৎকালীন জেলা কমিটির ওপরও দায় বর্তায়।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগটি তারা তদন্ত করে দেখবেন। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। 
 

আরও পড়ুন

×