বালু দিয়ে ভরাট কালভার্টের মুখ, ৫০ পরিবার পানিবন্দি
বালু ফেলে বন্ধ করা কালভার্টের মুখ সমকাল
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ফেলে কালভার্টের মুখ ভরাট এবং পানি নিষ্কাশনের নর্দমা বন্ধ করে দেওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫০ পরিবার। খোকসা পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর মধ্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দুই মাস আগে গ্রামের শাহ আলম নামের এক ব্যক্তি গড়াই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু এনে রাস্তার পাশে নিজের জমি ভরাট শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রায় ৫০ বছর পুরোনো একটি কালভার্ট ও প্রায় ১০০ ফুট লম্বা পাকা নর্দমা বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেন। এতে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ বন্ধ হয়ে যায়। এ ড্রেজারের পাইপ দিয়ে বালুর সঙ্গে আসা পানিতে ৫০ পরিবারের বাড়িঘর ও উঠান তলিয়ে যায়। ভুক্তভোগী অনেকের রান্না ঘরের চুলার মধ্যে পানি উঠে গেছে। এতে রান্না করতে পারছেন না তারা। গ্রামের অনেকেই আশপাশের এলাকার আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে গরু-ছাগল রেখে এসেছেন। পানিবন্দি পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।
স্থানীয় মসজিদের খাদেম ও মুয়াজ্জিন সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ড্রেজারের পাইপে বালুর সঙ্গে আসা পানিতে অনেক বাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারের অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বালু দিয়ে ভরাট করা পুরাতন নর্দমা ও কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অরুণা নামে এক প্রবীণ নারী জানান, গ্রামের ডোবা জমিগুলো অবৈধ বালু দিয়ে ভরাট করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের পাকা রাস্তার নিচে দিয়ে কালভার্ট ছিল। ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে সেই কালভার্ট বন্ধ করায় প্রায় দেড় মাস তাঁর পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। তিনি স্থানীয় অনেক নেতার হাতপায়ে ধরেছেন কিন্তু কেউ সহায়তা করেননি।
তিন সন্তানের মা রুমী খাতুন বলেন, তাঁর বাড়ি যাওয়ার রাস্তাসহ গ্রামের ভেতরের রাস্তাটিও পানিতে ডুবে আছে।
শাহ আলমের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। শাহ আলমের ছেলে ফিরোজ হোসেন বলেন, কালভার্টসংলগ্ন জমির মালিক তারা। তারা জমি ভরাট করলে অথবা বাড়ি করলে আপনি আপনি কালভার্ট বন্ধ হয়ে যেতো। তাই হয়েছে।
ড্রেজারের মালিক হাকিম মোল্লা জানান, ড্রেজার ও ট্রলার তাঁর, ঠিক আছে। কিন্তু তাঁর মেশিন ভাড়া নিয়েছেন মোস্তাক নামের বিএনপি নেতা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ও পৌর প্রশাসক রেশমা খাতুন বলেন, এ ঘটনায় তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। এ ছাড়া পৌর এলাকায় ড্রেজারের পাইপ ফেলতে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিতে হয়। কেউ অনুমতিও নেয়নি।
- বিষয় :
- বালুখেকো
