ধর্ষণ ও হত্যার পর ছাত্রীর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হলো গাছে
প্রতীকী ছবি
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:২২
নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদ্রাসাছাত্রী হালিমা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ বটগাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সে উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা মৎস্যজীবী পাড়া এলাকার হাসান আলীর মেয়ে এবং গাড়ফা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।
রোববার রাত ২টার দিকে পুলিশ গাড়ফা ত্রিমোহনী এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
হালিমার বড় বোন রহিমা খাতুন জানান, তিন ভাই চার বোনের মধ্যে হালিমা সপ্তম। তার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল লাদেন দেওয়ান। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাদেন বাড়ি থেকে জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নেয় হালিমাকে। এ সময় তার সঙ্গে বুলু মিয়ার ছেলে ছোটন মিয়াও ছিল। পরে রাত ৮টা বেজে গেলেও হালিমা বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। রাত ১২টার দিকে এক পথচারী খবর দেন হালিমাকে মেরে ত্রিমোহনী এলাকায় বটগাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় হালিমার পরনের পোশাক রক্তমাখা ছিল।
বাবা হাসেন আলী বলেন, লাদেন দেওয়ান মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় গ্রামের প্রধানদের কাছে অনেক ধরনা দিয়েছি। কিন্তু তারা মেয়ের জন্য কিছুই করতে পারল না। মা মমেনা বেগম বলেন, মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে বড় করতে চেয়েছিলাম। তবে লাদেন সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দিল না। মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
সরেজমিন দেখা যায়, নিহতের বাড়ি থেকে ঘটনাস্থল আধা কিলোমিটার দূরে। নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। যে বটগাছের ডালের সঙ্গে হালিমার লাশ ঝুলন্ত ছিল, তা মাটি থেকে ৭ ফুট উঁচু। ঘটনাস্থলে পাটের বস্তা দিয়ে তৈরি বালিশ, রক্তের দাগ এবং পায়ের গোড়ালির চিহ্ন আছে। ঘটনাস্থলের পাশেই বাড়ি তোফিজ উদ্দিনের। তিনি জানান, রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ১২টার দিকে ডাকাডাকি শুনে বাইরে এসে জানতে পারি ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আন্তাদুল ইসলাম জানান, লাদেন দেওয়ান প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেছে। সে বিভিন্ন সময় হালিমাকে উত্ত্যক্ত করত। তাকে অনেকবার নিষেধও করেছি।
লাদেন দেওয়ানের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার খালাতো বোন মৌসুমী খাতুন জানান, তিন দিন আগে থেকে লাদেনের স্ত্রী বাবার বাড়িতে। মা-বাবা ভিক্ষা করতে বাইরে। আর লাদেন গত রাত থেকে বাড়ি ফেরেনি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস জানান, রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। সকালে মেয়ের বাবা থানায় এসে দু'জনের নামে একটি অভিযোগ করেন। সোমবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। হত্যা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।