ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভেসে উঠছে মরা মাছ

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভেসে উঠছে মরা মাছ
×

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভেসে উঠা মরা মাছ- সমকাল

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:২৮

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি থেকে বিভিন্ন জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণী মরে ভেসে উঠেছে। গত শনিবার থেকে এমন ঘটনায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। 

সোমবার বিকেলে মৎস্য বিভাগের লোকজন জলপ্রপাতের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করেছেন। এতে তারা পানির প্যারামিটার স্বাভাবিক পেয়েছেন। তাদের ধারণা, মাছ মারার জন্য পানিতে কেউ বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয়রা পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজপ্রাণী ভেসে উঠতে দেখেন। এর মধ্যে ছিল পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, ব্যাঙ, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ। মৃত মাছের কারণে পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পানিতেও দুর্গন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, মারা যাওয়া বামাসের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর হতে পারে।

সোমবার দুপুরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার লোকজন কিছু মরা বামাস নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পচা মাছ পানি থেকে তুলে ফেলছেন, যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। কিছু মাছসহ জলজপ্রাণী জলপ্রপাতের আশপাশে ছড়িয়ে আছে। এগুলো থেকে পানির পাশাপাশি এলাকার বাতাসেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, পাহাড়ি ছড়ায় অনেক ধরনের মাছ থাকে। মাছ ধরার জন্য মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ওপরের অংশে কেউ বিষ প্রয়োগ করতে পারে। ওপর থেকে গড়িয়ে পড়া ঝরনার পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে। এই পানি ছড়া দিয়ে গিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ছে। পানি বিষাক্ত হলে হাওরেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মী সামির বলেন, গত শনিবার সকালে এসে দেখছি মরা মাছ। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। তাই মাছ তুলে ফেলেছি। বেশ কয়েকটি মরা বামাস তুলেছি। কাঁকড়াসহ বিভিন্ন ধরনের মাছও ছিল। কেউ বিষ দিলে এটা জঘন্য কাজ হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ গতকাল দুপুরে বলেন, পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে পানির প্যারামিটার স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা, পাহাড়ি বিষ লতা কেউ পানিতে দিয়েছে। এ কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণী মারা যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পানিতে ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করছি। আশা করছি, ওষুধ দেওয়ার পর পানির বিষাক্ত প্রভাব কমে যাবে।

বন বিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন রায় বলেন, কী কারণে মাছ মরে ভেসে উঠছে, তা এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

আরও পড়ুন

×