পলিটেকনিক অধ্যক্ষের প্রাণনাশের আশংকা ছিলো: তদন্ত কমিটি
অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ- সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:২৫
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে মহানগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন মেহেদী হাসান আশিক, মেহেদী হাসান হিরা, নবীউল উৎস ও নজরুল ইসলাম। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।
তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছে, পুকুরে ফেলে দেওয়ায় অধ্যক্ষের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। সাঁতার জানায় তিনি বেঁচে গেছেন।
মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, আটক সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। সিসিটিভির ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ছয় দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পলিটেকনিক ইন্সটিউটের শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। সকাল ১১ টায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের নিচে অবস্থান নেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ ৬দফা দাবি বাস্তবায়ন চান।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতারা আন্দোলনকারীদের ফোনে ও ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই কারণে দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।
এদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পৌঁছায়। সোমবার সকাল থেকেই তারা পলিটেকনিকের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুকুরের পানির গভীরতাও পরিমাপ করেছেন। এছাড়া ইনস্টিটিউটের ১১১৯ নম্বর কক্ষে অবস্থিত ছাত্রলীগের টর্চার সেলও পরিদর্শন করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব এসএ ফেরদৌস আলম বলেন, পুকুরের গভীরতা ছিলো অন্তত ১৫ ফুট। অধ্যক্ষ সাঁতার না জানলে প্রাণনাশের আশংকা ছিলো। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা জানার করার চেষ্টা করেছে। এখন তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হবে।
এদিকে ছাত্রলীগ পলিটেক শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ী বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর আগে তাকে স্থায়ী বহিস্কারের জন্য নগর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেছিলো। মহানগর ছাত্রলীগ গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও সোমবার ইনস্টিটিউটে এসে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছে।
পরে তারা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, একমাত্র কামাল হোসেন সৌরভ ব্যতিত ছাত্রলীগের আর কোনো নেতাকর্মী হামলার সময় ছিলেন না।
ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে দুই ছাত্রের পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়ায় শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের ভেতরের পুকুরে নিক্ষেপ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সাঁতার জানার কারণে তিনি বেঁচে যান।