ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জেলের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, সহায়তা পায় না অনেক পরিবার

জেলের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম, সহায়তা পায় না অনেক পরিবার
×

 রাজ্জাক মিকা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১১:৪২ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৪৩

দেওয়ানগঞ্জে জেলে তালিকাভুক্ত করা ও জেলেদের সহায়তার কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে বাদ পড়েছে প্রকৃত জেলের নাম। জেলে নয় এমন নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রকৃত জেলেরা। দ্রুত জেলেদের নিবন্ধনের তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৩৮ জন জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৮৪ জন। বাকি ৫৫৪ জন নিবন্ধিত নন। মৃত্যু, নিবাস স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৫৫৪ জেলের নাম তালিকায় রাখা হয়নি বা নিবন্ধিত হয়নি। ৪ হাজার ৮৪ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ডাংধরা ইউনিয়নে আছেন ৮৮৯ জন, চরআম খাওয়া ইউনিয়নে ৩২৫, পাররামরামপুর ইউনিয়নে ৪৯৩, হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নে ১১০, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে ৮৮৮, চিকাজানী ইউনিয়নে ৫৭১, চুকাইবাড়ী ইউনিয়নে ২৬২, সদর ইউনিয়নে ২১৯ এবং পৌরসভায় আছেন ৩৪৭ জন।

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত প্রতিটি জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে ২৫ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ পড়েছে এবং জেলে নয় এমন পরিবার প্রধানের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। 

পোল্যাকান্দি নামাপাড়ার জেলে একাব্বর আলী জানান, তাঁর বসতভিটা নেই। রাস্তার ধারে সরকারি জমিতে ঘর তুলে থাকছেন। ছোটবেলা থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তাঁর নাম নিবন্ধিত হয়নি। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কোনো সহায়তা পাননি। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ উপজেলায় দুই ধরনের জেলে রয়েছে। খণ্ডকালীন জেলে ও স্থায়ী জেলে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সরকার জেলে নিবন্ধন বা তালিকাভুক্ত করার সময় এমন হয়েছে। সে সময় তালিকাভুক্ত করার পর কিছু জেলে মৃত্যুবরণ করেছেন, আবার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৫৫৪ জেলেকে সহায়তার কার্ড দেওয়া হয়নি। পরবর্তী নিবন্ধনের সময় তা ঠিক করা হবে।

সেই সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অসহায় জেলে পরিবারকে গরু (বকনা বাছুর) সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২ জেলে পরিবারকে গরু সহায়তা দেওয়া হয়। এসব গরু বিতরণে জেলেদের তালিকা তৈরি বা বিতরণেও অনিয়ম দেখা গেছে। প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী গরু বিতরণ করা হয়নি। প্রকল্পে বলা হয়েছে, সুফলভোগীদের মধ্যে অক্ষত, স্বাস্থ্যবান ও দেশি প্রজাতির গরু বিতরণ করতে হবে। ৭ থেকে ১০ মাস বয়সি ৪০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ওই বকনা বাছুরের প্রতিটির মূল্য হবে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা।

নুরজল মিয়া বলেন, ‘অনেক আগে থেকে মাছ ধরি, তা বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু সরকারিভাবে আমার কোনো সহায়তার নাম হয়নি। জমাজমি নেই। বসতভিটা নেই। অনেককে গরু দেওয়া হয়েছে। আমি একটি গরু চেয়েছিলাম, কিন্তু দেওয়া হয়নি। অনেক সচ্ছল জেলে পরিবারের প্রধানও গরু পেয়েছে।’

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, তারা খণ্ডকালীন জেলে। তারা সরকারি অনুদানের চাল পান। তাদের গ্রামের অনেকেই রয়েছেন, তারা জেলে নন অথচ সরকারি অনুদানের চাল পান। আবার অনেক জেলের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, ‘জেলেদের নাম আমরা তালিকাভুক্ত করিনি। ২০০৭-০৮ সালের দিকে ওই নামগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওই তালিকা ধরেই আমরা সহায়তা দিয়ে থাকি।’ তাঁর ভাষ্য, সরকার যদি সুযোগ দেয় নাম পরিবর্তন করার, তবে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গরু বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে এই মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপকারভোগীদের মাঝে গরু বিতরণে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। প্রকল্পের নির্দেশাবলি মানা হয়েছে। ৪০-৫০ কেজি ওজনের সুস্থ-সবল গরু জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×