রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্ক টহল বাড়ানোর দাবি
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিরাতে ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের। ডাকাতি দমনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; বলছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনের গতি রোধ করে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করছে ডাকাতরা। একই সঙ্গে বাজার ও মোড়ের দোকানপাটের তালা ভেঙে মূল্যবান মালপত্র লুটে নিচ্ছে। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথেও ব্যবসায়ীরা তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে সারাইগাছী-আড্ডা আঞ্চলিক মহাসড়কের মোশানতলা মোড় থেকে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিনটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে একাধিক যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে। একই রাতে বেজোড়া মোড়ে তিনজন নৈশপ্রহরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৮টি দোকানের মালপত্র লুটে নেয় ডাকাত দল।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর রাতে সারাইগাছী-আড্ডা সড়কের মোশানতলা মোড়ে একই কায়দায় আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী চলে এ তাণ্ডব। গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে উভয় দিকের যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মালপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। ডাকাতদের হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
বেজোড়া মোড়ের ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির, রাজিবুল হাসান এবং মুদি ব্যবসায়ী জাকারিয়া জানান, এলাকায় মাঝেমধ্যেই ডাকাতি হয়। ১৫ অক্টোবর রাতে ১৮টি দোকান লুট হয়েছে। এতে অর্ধলক্ষাধিক টাকার মাল নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোশানতলা মোড়ে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ঘটনার সময় পুলিশ কাছাকাছি অবস্থান করলেও কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। ডাকাতি শেষ হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে আসে। তারা বলছেন, টহল জোরদার ও সড়কে রাত্রীকালীন নিরাপত্তা বাড়ালে ডাকাতি দমন সম্ভব।
ঘাটনগর ইউনিয়নের তাঁতিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় আমার পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আমাকে মারধর করে। পরে ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ওসি মিন্টু রহমান বলেন, সম্প্রতি এলাকায় কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বলেন, ডাকাতি রোধে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- ডাকাত
