ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহন সংকট, নিবন্ধিত বাস চলছে গ্রামে

গণপরিবহন সংকটে ব্যাপক যাত্রী ভোগান্তি

চট্টগ্রাম নগরে গণপরিবহন সংকট, নিবন্ধিত বাস চলছে গ্রামে
×

চট্টগ্রাম মহানগরে যাত্রী পরিবহনের জন্য রুট পারমিট নেওয়া বাসগুলো আনোয়ারা-গহিরা সড়কের কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায় সড়কের দুই পাশে পার্ক করে রাখা। গত শুক্রবার তোলা- সমকাল

 আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:১১ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রুট পারমিট চট্টগ্রাম মহানগরের। কিন্তু সে বাস চলছে গ্রামে। ফলে গণপরিবহন সংকটে সাধারণ যাত্রীদের সকাল-সন্ধ্যা ব্যাপক ভোগান্তি নিয়ে বাসা ও অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। বাস-মিনিবাস চলাচলের জন্য মহানগরে নির্দিষ্ট রুট থাকলেও মানছেন না বাসচালক ও মালিকরা। এক রুটের বাস চলছে অন্য রুটে। ট্রাফিক পুলিশের সামনে শহরের বাস প্রতিদিন গ্রামে যাওয়া-আসা করলেও নির্বিকার পুলিশ। কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

চট্ট মেট্রো-জ ১১-২২০৯ বাসটি চট্টগ্রাম মহানগরের টাইগারপাস টু ভাটিয়ারী ৪ নম্বর রুটে মহানগরের বাকলিয়া থেকে নতুন ব্রিজ হয়ে সকালে কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকদের নিয়ে যায় আনোয়ারায়। সন্ধ্যায় অফিস ছুটি শেষে আবার বাকলিয়ায় ফিরে এসে শ্রমিকদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামিয়ে দেয়। মাসিক ভাড়া চুক্তিতে শ্রমিক পরিবহন করছে এই বাসটি। 

একইভাবে চট্ট মেট্রো-জ ১১-১৯২৩ বাসটি গণপরিবহন হিসেবে রুট পারমিট ৪ নম্বর রুটের। এটিও নগরের টাইগারপাস টু ভাটিয়ারী রুটে সারাদিন সাধারণ যাত্রী পরিবহন করার কথা। কিন্তু বিআরটিএর নির্ধারিত সড়কে চলছে না ৩১ সিটের বাসটি। এটিও আনোয়ারায় শ্রমিকদের মাসিক চুক্তিতে ভাড়ায় নিয়োজিত। শুধু এ দুটি বাসই নয়; এ রকম একশ থেকে দেড়শ বাস কোরিয়ান ইপিডেজের ভাড়ায় নিয়োজিত। এভাবে চট্টগ্রাম নগরের ৪ নম্বর, ৬ নম্বর, ৭ নম্বর, ৮ নম্বর এবং ১০ নম্বর রুটের পারমিট থাকলেও নির্ধারিত রুটে চলাচল করছে না আরও দুইশ থেকে আড়াইশ বাস। মাসিক চুক্তিতে অধিক মুনাফায় ইপিজেডের শ্রমিক, স্কুলবাসসহ নানা ভাড়ায় খাটছে। 

নির্ধারিত রুটের গণপরিবহন অন্য রুটে চলাচল করায় চট্টগ্রাম নগরে সকাল থেকে দুপুর, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চরম ভোগান্তি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। সকালে অফিস ধরতে এবং সন্ধ্যায় অফিস ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাস মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো রুটে চালাচ্ছেন এসব বাস।

আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা আবিদ গ্রুপের জুনিয়র কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম খোকন বলেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টায় একে খান মোড়ে সড়কের ওপর ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট এবং সন্ধ্যায় ফিরতে আগ্রাবাদ মোড়ে কখনও এক ঘণ্টা কখনও দেড় ঘণ্টা পাবলিক বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ ভোগান্তি নিত্যদিনের।

দেওয়ানহাট মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা সিকিউরিটি গার্ড রেজ্জাক মোল্লা বলেন, প্রতিদিন মুরাদপুর থেকে দেওয়ানহাট বাসের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে আসতে হয়। ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার সময় আরেক যুদ্ধ। ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠতে হয়। এভাবেই সাধারণ মানুষ শহরে চলাফেরা করছে। 

চট্টগ্রাম মহানগরে ১৭টি গণপরিবহন রুটে ১ হাজার ১৭৫টি বাস-মিনি বাসের পারমিট রয়েছে। তার মধ্যে ৪৫০-৪৭০টি বাস এসব রুটে চলছে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি রুটের পারমিট থাকা দেড়শ বাসও উধাও। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী থেকে টাইগারপাস রুটে ১৩২টির রুট পারমিট থাকলেও চলাচল করে মাত্র ৬৫টি। বিমানবন্দর থেকে লালদীঘি রুটে ৭৫টির মধ্যে ৩৫টি, সি-বিচ থেকে লালদীঘির পাড় রুটে ১৫০টির মধ্যে ৯০টি, ভাটিয়ারী থেকে বড়পুল, বাদামতলী রুটে ১০৭টির মধ্যে চলে ৬০টি, অক্সিজেন থেকে টাইগারপাস-লালদীঘি রুটে ৩৯টির মধ্যে ১৬টি, কালুরঘাট থেকে সি-বিচ রুটে ১৯৭টির মধ্যে ১১৫টি, ভাটিয়ারী থেকে পোর্ট কানেকটিং রুটে ১২৫টির মধ্যে ৮৫টি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বহদ্দারহাট হয়ে সি-বিচ রুটে ৫৫টির মধ্যে প্রায় সব গাড়িই চলছে এবং নিমতলা, বড়পুল হয়ে রুটে ২০টির মধ্যে ৮টি বাস চলাচল করছে। 

বিআরটিএ চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ এর সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, গণপরিবহন সংকট কাটাতে নগরজুড়ে নতুন বাস-মিনিবাস চলাচলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নগরের রুট পারমিট নেওয়া বাস গ্রামে চলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অনিয়মের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। 
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, করোনার ধাক্কাসহ নানা সংকটের কারণে আমাদের সংগঠনের এক সময় ৫০০টি বাস থাকলেও বর্তমানে আড়াইশর মতো চলাচল করছে। তাই গণপরিবহনের সংখ্যা দিন দিন কমেছে। সব মিলিয়ে পরিবহন খাত এখন লোকসানি ব্যবসা। তাই বাড়তি একটু আয়ের জন্য কেউ বাইরে দুই-একটা বাস ভাড়ায় দিয়ে থাকতে পারেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক-দক্ষিণ) উপকমিশনার মো. লিয়াকত আলী খান বলেন, প্রতিদিন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করায় পাবলিক বাসসহ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। কোনো বাস যদি নির্ধারিত রুটে না চলে অন্য রুটে চলে; প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।  

আরও পড়ুন

×