দালাল চক্রে বন্দি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) অভিযানে ৯ দালালকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার শাহ আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সেনাবাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন– বানিয়াচং উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামের অশিত দাশ, সদর উপজেলার পইল গ্রামের রমিজ আলী রনি, হবিগঞ্জ শহরের কামাল শাহ, আনন্দপুর এলাকার আসাদুজ্জামান রিপন, সুনামগঞ্জ জেলার কাউছার, বানিয়াচং উপজেলার বিলু মিয়া, চুনারুঘাট উপজেলার ফুলগাঁও গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়া, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নিতু ঘোষ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সৌরভ রায়।
তাদের জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন মিয়ার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান করা হয়। এ সময় প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম করাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালাল চক্র দাপট দেখিয়ে চলেছে। হাসপাতালের রোগী থেকে শুরু করে অনেকে দাপ্তরিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরুই করে। এতে করে চিকিৎসাসেবা প্রদানে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন চিকিৎসকসহ হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, কেবিন ও ওয়ার্ড ভাড়া থেকে শুরু করে রোগীদের পথ্য নির্ধারণ এমনকি, চিকিৎসাপত্র কেড়ে নিয়ে তাদের সদর হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নিতে উস্কে দিচ্ছেন দালালরা। এতে অনেকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার দালালের কথামতো বাইরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একাধিক রোগীর স্বজন জানান, দালাল ছাড়া কোনো কিছুই সেখানে করানো যায় না। দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ রোগী। এ ছাড়া আলট্রাসনোগ্রাফি, রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হলেও দালালদের মাধ্যমে যেতে হয়। তাদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারো সংশ্লিষ্টতা ছাড়া দালাল চক্র এত দাপট দেখানোর সুযোগ পাওয়ার কথা না। রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এক চিকিৎসক জানান, দালালের কারণে চাইলেও রোগীকে ঠিকমতো সেবা দিতে পারছেন না তারা। দালাল চক্রের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততারা কারণে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না।
খবর নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসেন হাসপাতালে। সেখান থেকে তাদের জন্য থাকে কমিশন। এতে করে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আবার কারো কারো কাছ থেকে দালালরা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সাধারণ রোগী ওইসব দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই।
নবীগঞ্জ উপজেলার তিতারকোনা গ্রামে জরিনা বেগম বলেন, তাঁর মা কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। মাকে নিয়ে সকালে হাসপাতালে আসেন তিনি। ডাক্তার না থাকার কথা বলে একজন
ব্যক্তি তাঁকে বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার কথা বলে এবং একটি কার্ড ধরিয়ে দেন।
র্যাব-৯ সিপিসি-৩ এর হবিগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডার শাহ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সদর হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের উপদ্রব বেড়েছে। প্রায়ই বিষয়টি নজরে এলে অভিযান চালানো হয়।
- বিষয় :
- দালাল
