ধোপাজান নদীতে চলছে বালু লুট, আদালতে মামলা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
যাদুকাটার ক্ষত না শুকাতেই তাণ্ডব শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জের অপর দুটি উল্লেখযোগ্য নদী ধোপাজান ও চলতীরত বুকে। স্থানীয়রা বলছেন, দিন-রাত দুই নদীতে চলছে বালু লুটের উৎসব। নিষিদ্ধ ড্রেজার আর বোমা মেশিনের শব্দ ও খননযন্ত্রের ধাতব আগ্রাসনে বিপর্যস্ত দুই নদী ও এলাকার বাসিন্দারা।
সূত্র জানায়, ভিটবালু তোলার কাগজ দেখিয়ে নদী থেকে তোলা হচ্ছে সিলিকা বালু। বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতির চুক্তি ভেঙে টোকেনের বিনিময়ে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন এসব বালু বিক্রি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লোকজন। এতে হুমকির মুখে পড়ছে নদীতীরের ফসলি জমি বাড়ি-ঘর।
বৃহস্পতিবার এমন অভিযোগ এনে লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ আরপিননগরের বাসিন্দা মো. গোলাম হোসেন। বিশ্বম্ভরপুর আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলায় লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী নাজমুল হুদা।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের কোম্পানি নদীতে নির্দিষ্ট জায়গায় ভিটমাটি উত্তোলনের অনুমতি এনেছে। তারা নির্ধারিত জায়গার বাইরে গিয়ে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। বাদীর রেকর্ডীয় জায়গা থেকে গত কয়েক দিনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি; যার পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা হতে আরও জানা যায়, এতে বাদীর জায়গাসহ স্থানীয়দের জায়গা নদীতে বিলীন হতে শুরু করেছে। বাধা দিলে মারধরের হুমকি দিচ্ছেন লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. গোলাম হোসেন বলেন, নদীতীরে তাঁর আমনের জমি। ২৭ অক্টোবর রাতে লিমপিড ড্রেজার মেশিন লাগায় সেখানে। তাদের প্রায় ৭০ জনের মতো লোক ছিল। বাধা দেওয়ায় হুমকি দেয় তারা। এতে তিন বিঘা জমি কেটে নিয়ে গেছে তারা।
মামলার আইনজীবী নাজমুল হুদা বলেন, লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের কোম্পানি ভিটবালু তোলার কথা বলে সিলিকন বালু তুলছে। তাঁর জায়গা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু নিয়ে গেছে তারা। আদালত মামলা আমলে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ডলুরা চলতি নদীর প্রবেশ মুখেই জেলার একমাত্র বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারি ধোপাজান। স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা আর পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে ২০১৮ সালে কোয়ারি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে আদেশ দেন আদালত।
দীর্ঘ কয়েক বছর বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শুরু হয় হরিলুট। লুট বন্ধ না করে উল্টো বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার হন তৎকালীন এসপি আনোয়ার হোসেন। এরপর প্রশাসন তৎপর হলে ফের বন্ধ হয় বালু উত্তোলন।
তবে বালুমহালে উত্তোলন বন্ধ থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্তে কয়েকদিন ধরে নদীতে চলছে বালু উত্তোলন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মাত্র এক কোটি টাকা রাজস্বের বিপরীতে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এরপর থেকেই নদীর একাধিক স্থানে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার আর বোমা মেশিনের তাণ্ডব চালাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং।
- বিষয় :
- বালুখেকো
