ফুল হাতে খুলনার নতুন কারাগারে বন্দিরা
.
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ১৭:০২
নির্মাণের কাজ শুরুর ১৪ বছর পর চালু হয়েছে খুলনার নতুন জেলা কারাগার। শনিবার ১০০ সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে নতুন কারাগারে আনা হয়। পুরাতন কারাগার থেকে বিদায়ের সময় সড়কের দুই পাশে দাড়িয়ে তাদের বিদায় জানান কারারক্ষীরা। নতুন কারাগারের ফটকে তাদের বরণ করে নেওয়া হয় গোলাপ ও রজনীগন্ধা দিয়ে।
খুলনার কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সংকটের কারণে নতুন কারাগারে বেশি বন্দি আনা হচ্ছে না। প্রায় দুই হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতার নতুন কারাগারে আপাতত ১০০ সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে বন্দির সংখ্যা বাড়বে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১১টায় তিনটি প্রিজন ভ্যানে করে ১০০ জন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দিকে খুলনার নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নতুন কারাগারে গেলে রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুল দিয়ে বন্দিদের বরণ করেন কারা উপমহাপরিদর্শক মনির আহমেদ। এ সময় খুলনা জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান, জেলার মুনীর হোসাইনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মুনীর হোসাইন বলেন, ‘নতুন কারাগার থেকে আদালতের দূরত্ব কিছুটা বেশি। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ গুছিয়ে উঠতে কয়েকদিন সময় লাগবে। আদালতে আসা-যাওয়া করার প্রয়োজন যাতে না হয়-এজন্য প্রথম পর্যায়ে শুধু সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের আনা হয়েছে।’ তিনি জানান, প্রথম দিন পুরাতন কারাগার থেকে ১০০ বন্দি আনা হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও কিছু সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আসবে। ধীরে ধীরে বন্দির সংখ্যা বাড়বে।
গণপূর্ত বিভাগ থেকে জানা গেছে, খুলনার সিটি বাইপাস (রূপসা সেতু) সড়কের পাশে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নতুন কারাগার নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয় ২০১১ সালে। ১৪ বছর পর সেই কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৮ বার প্রকল্পের সময় বেড়েছে, দুই দফা সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৮৮ কোটি টাকা।
সম্প্রতি কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, ভেতরে সাজানো-গোছানো, অভিজাত আবাসিক এলাকার মতো পরিবেশ। রং দেওয়া নতুন ভবন, দামি পার্কিং টাইলস দেওয়া ফুটপাত ধরে হাঁটলে এটি কারাগারই মনে হয় না। বন্দিদের থাকার প্রতিটি ভবনের চারপাশে পৃথক সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। একশ্রেণির বন্দিদের অন্য শ্রেণির বন্দিদের সঙ্গে মেশার সুযোগ থাকবে না। কারাগারের ভেতরে শুধু সীমানাপ্রাচীরই রয়েছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের।
প্রকল্প অফিস থেকে জানা যায়, নতুন কারাগার নির্মাণ হচ্ছে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থানে রাখা হবে। কিশোর ও কিশোরী বন্দিদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যারাক। নারীদের জন্য আছে পৃথক হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও ওয়ার্কশেড। বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতালও থাকবে।
আরও থাকবে কারারক্ষীদের সন্তানদের জন্য স্কুল, বড় লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি। কারাগারে শিশুসহ নারী বন্দিদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার। এ ওয়ার্ডটিতে সাধারণ নারী বন্দি থাকতে পারবেন না।
