ভাঙচুর, লুটপাটে আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা
ছাতকের ইছামতি বাজারে দুর্বৃত্তের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকান ঘর -সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইছামতি বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছেন। দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ভাঙচুর করায় তাদের মাঝে এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবারও ছিল একই পরিস্থিতি।
সংঘর্ষের ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এ বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রখেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দোকানপাটে চালানো হয়েছে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইছামতি বাজারে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে লুভিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম কামরুলের সঙ্গে বনগাঁও গ্রামের ফজলুল করিমের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপরই কামরুল ইসলামের লোকজন ইছামতি বাজারে এসে অন্তত ১৫টি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও একপর্যায়ে শুরু হয় বনগাঁও এবং লুভিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ইছামতি বাজার ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাজারে হামলা চালানোয় এলাকার অনেকেই হতবাক হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকানে লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
বনগাঁও গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, কসমেটিকস দোকানের মালপত্র লুটসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মুদি দোকানি দারোগাখালী গ্রামের আকবর আলী বলেন, সংঘর্ষের সময় সন্ত্রাসী কায়দায় দোকানে ভাঙচুর করে ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ভয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে দোকান ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।
থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহত মানিক মিয়ার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- দোকান ভাঙচুর
