রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ
একটি শূন্য পদে ১০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট নতুন পদ সৃষ্টি করলেও অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি
অর্পণ ধর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৬ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিভাগে একটি শূন্য পদে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৯টি অতিরিক্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থি। শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, বিভাগের সভাপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে নিয়মবহির্ভূতভাবে পছন্দের মানুষদের নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন।
গত ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বিভাগে কেবল একটি শূন্য পদ রয়েছে। তবে ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২০তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন করে তিনটি পদ এবং চলতি বছর ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় আরও ছয়টি পদ সৃষ্টি করে প্রশাসন। তবে নতুন পদগুলো ইউজিসি এখনও অনুমোদন দেয়নি। আর শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিভাগের প্ল্যানিং কমিটিতে চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করে। বিভাগের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের সমন্বয়ে প্ল্যানিং কমিটি গঠন করা হয়।
রাবি অধ্যাদেশের ক্যালেন্ডারে প্ল্যানিং কমিটির কাজের বিষয়ে ৪-এর ‘বি’-এর ১ ও ২ ধারায় বলা আছে, পদ সৃষ্টি করা ও অনুমোদিত পদ পূরণ করা। অর্থাৎ ৯টি পদে ইউজিসির অনুমোদন না থাকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা নিয়মের ব্যত্যয়।
এ ছাড়া ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে একটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রের ‘ঙ’ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তার অভাবে যদি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর বিভাগের ১৯৭তম প্ল্যানিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তবে অননুমোদিত পদে নিয়োগের বিষয়ে প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) প্রদান করেন। এই আপত্তিপত্র তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসি সচিবের কাছেও পাঠিয়েছেন। আপত্তিপত্রে তিনি লিখেছেন, একটি পদের বিপরীতে কেবল একজনকে নিয়োগ দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে শূন্যপদ ছাড়া বিশেষ উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দিলে তা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, বিভাগের সভাপতি আমার আপত্তি সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেন, সেখানে মেডিসিনের দুটি পদ রাখা হয়েছে। অথচ মেডিসিনে আমরা চারজন শিক্ষক আছি। কিন্তু সার্জারিসহ যেসব গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিনে আমাদের শিক্ষক দরকার, সেগুলো বিজ্ঞপ্তিতে রাখা হয়নি। যেসব ক্যান্ডিডেটকে নিয়োগ দিলে সুবিধা হবে, তাদের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে গোপনে অনেক কিছু চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের আরেক শিক্ষক সমকালকে বলেন, আমাদের বিভাগের সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। কয়েক মাস পরই তাঁর দায়িত্ব শেষ হবে। এ জন্য তিনি তড়িঘড়ি করে পছন্দের মানুষদের নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন।
জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোইজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো নতুন পদ সৃষ্টি করা হলে ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিতে হয়। সে পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁর জন্য বেতন-ভাতার জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়। যেহেতু পদের অনুমোদন ইউজিসি থেকে করা হয়নি, তাহলে সে পদের বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ হবে না। এটা স্পষ্টতই নিয়মের লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সিন্ডিকেট থেকে এই পদগুলো অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য বেশ কয়েকবার কাগজপত্র পাঠানো হলেও ইউজিসি বলছে, তারা কাগজপত্র পায়নি। যেহেতু সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।
- বিষয় :
- শিক্ষক নিয়োগ
