ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পলিতে ঢেকে গেছে রাবার ড্যাম, বোরো চাষে অনিশ্চয়তা

পলিতে ঢেকে গেছে রাবার ড্যাম, বোরো চাষে অনিশ্চয়তা
×

চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীতে দুটি রাবার ড্যাম পলিমাটিতে চাপা পড়েছে সমকাল

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৭ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

সেচ সুবিধা নিশ্চিতে চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীতে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি রাবার ড্যাম পলিমাটিতে চাপা পড়ে ঢেকে গেছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রাবার ড্যাম দুটির ওপরে জমা হওয়া পলি অপসারণ করে রাবার ব্যাগ ফুলিয়ে মিঠাপানি মজুত না করলে চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। নদীর মিঠাপানি আটকে রেখে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই চকরিয়ার পালাকাটা রামপুর ও বাঘগুজারা নামক স্থানে রাবার ড্যাম দুটি নির্মাণ করেছিল পাউবো। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটি ফোলানোর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিয়ে চকরিয়া উপজেলার কৃষকেরা প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধান ও রবিশস্য চাষাবাদ করে আসছেন। এ বছরও চকরিয়ার ৪৪ হাজার ৫০০ একর এবং পেকুয়ার ১৫ হাজার একর জমিতে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। অনেকে ইতোমধ্যে বোরো চাষের লক্ষ্যে বীজতলা তৈরি করতে শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাবার ড্যাম দুটি পলিমাটিতে ঢেকে যাওয়ার কারণে মিঠাপানির নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত পলিমাটি অপসারণ করে রাবার ড্যাম দুটি ফোলানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ জন্য কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ কামনা করেন। 

জানা গেছে, ১৯৭৩ সাল থেকে অবিভক্ত চকরিয়াকে সবুজ বিপ্লবের আওতায় আনতে সর্বপ্রথম মাতামুহুরী নদীর দুটি পয়েন্টে অস্থায়ী মাটির ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এই বাঁধ তৈরি করে প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ নিশ্চিত করা হতো। পরে ২০০৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর দুই পয়েন্টে স্থায়ীভাবে রাবার ড্যাম দুটি নির্মাণ করে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি, চকরিয়া উপজেলা এরিয়া) মো. জামাল মুর্শিদ বলেন, পাউবোর প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে রাবার ড্যাম দুটি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এখনও চকরিয়া উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান চাষ শুরু হয়নি। তবে রবিশস্যের চাষে কৃষকেরা নদী থেকে মেশিন বসিয়ে সেচ সুবিধা নিতে পারছেন। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চাষের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে রাবার ড্যামের ব্যাগগুলো ফোলানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, সেজন্য টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। চাষাবাদে সেচ সুবিধা নিয়ে কৃষকদের কোনো অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের সেচ সুবিধা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তক্রমে মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটি ফোলানো হয়। এ বছরও চাষাবাদের শুরুতে ড্যাম দুটি ফোলানোর পদক্ষেপ নিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×