সৌদিতে নির্যাতিত সেই সুমিকে উদ্ধার
সুমি আক্তার-ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:১৩
সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার সুমি আক্তারের দেশে ফেরার আর্তনাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করেছেন।
বর্তমানে তিনি দূতাবাদের ত্বত্তাবধানেই রয়েছেন এবং ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন সুমি আক্তারের স্বামী নুরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেলে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় সুমি আক্তারের বিষয়ে খোঁজ নিতে তার বাড়িতে গেলে একথা জানান নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে সুমির সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানকার লোকাল থানা থেকে পুলিশ গিয়ে সুমিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে বাংলাদেশ দূতাবাসের ত্বত্তাবধানে রয়েছে এবং ভালো আছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে পাঠানো হবে।
নুরুল জানান, সুমি আক্তারের সঙ্গে তিন বছর আগে তার বিয়ে হয়। প্রথম স্ত্রী দু’টি ছেলে সন্তান রেখে মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। এরপর সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন।
তিনি বলেন, বিয়ের পর আগের ঘরের দুই সন্তান নিয়ে আমাদের সংসার ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে সুমি আমাকে না বলেই অন্যের প্ররোচনায় পড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। এখন আমার আগের ঘরের দুই ছেলে সুমির জন্য প্রায়ই কান্নাকাটি করে।
বড় ছেলে রিফাত (৯) স্থানীয় চারাবাগ মডেল মাদ্রাসায় পড়ে এবং ছোট ছেলে সিফাত (৭) বাসায় থাকে। তারা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, আপনারা আমার মাকে এনে দেন। আমরা মাকে ফেরত চাই।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিওতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। সেখানে সুমি বলেন, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইবো, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। এখানে আমার ওপর অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। আর কিছুদিন থাকলে হয়তো মরেই যাবো। তাই প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’
সুমির আকুতির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তার স্বামী নুরুল ইসলাম রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে তিনি জানান, চলিত বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন সুমি। পরবর্তীতে বিনামূল্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে দালালদের দেখানো লোভ আর বিদেশে গিয়ে ভালো টাকা আয়ের আশ্বাসে গত ৩০ মে ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে যে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে সুমি তা বুঝতে পারেননি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহ খানেক পর থেকে তার ওপর শুরু হয় মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।
- বিষয় :
- সৌদি আরব
- নারী নির্যাতন
- সুমি আক্তার