ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৪ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি, ক্ষোভ

১৪ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামি, ক্ষোভ
×

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার গাড়িচালক শহিদুল হত্যার বিচার চেয়ে বুধবার দুপুরে পৌরসভার সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার গাড়িচালক শহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিনেও আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তেও নেই কোনো অগ্রগতি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। 
বুধবার দুপুর ১২টায় কুমারখালী পৌরসভার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন তারা। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, কুমারখালী পৌরসভায় বর্তমানে ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। তাদের ৪২ মাসের বকেয়া মজুরি এখনও পরিশোধ হয়নি। ১৯ নভেম্বর সকালে বকেয়া বেতন দাবিতে শহিদুল পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের দরজা বন্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলামের কক্ষটি বন্ধ করতে গেলে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে কিল-ঘুসি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পৌর কর্মচারীরা ফিরোজুলকে ১১৫ এবং শহিদুলকে ১১৬ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর সহকর্মীরা শহিদুলকে কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে শহিদুলের মেয়ে সুবর্ণা খাতুন বাদী হয়ে ফিরোজুলের নামে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও দুই থেকে তিনজনকে।

সুবর্ণা খাতুনের অভিযোগ, বেতন চাইতে গেলে সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলাম তাঁর বাবাকে কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে কক্ষে আটকে রাখে। নির্যাতনে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেছেন। কিন্তু ১৪ দিনেও পুলিশ আসামি ধরতে পারেনি।
শহিদুলের ছেলে মারুফ হোসেন বলেন, মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫ দিনের ছুটিতে আছেন। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন শেষে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছুটিতে থাকলেও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, শহিদুল হত্যার বিচার চেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

×