প্রকৃতি
শীতের হাইল হাওরে লাল শাপলার হাসি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর লাল শাপলায় রঙিন। সম্প্রতি তোলা -সমকাল
শামীম আক্তার হোসেন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৫ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষার ভরপুর পানির স্মৃতি ভুলে শীতের কুয়াশায় এখন মাখামাখি হচ্ছে হাওরাঞ্চল। তবে এখনও সব জায়গায় পানি শুকিয়ে যায়নি। হাওরের কিছু বিলে এখনও জমে আছে পানি। আর সেই পানিতেই যেন রাজপাট গড়েছে লাল শাপলা ফুল। নীল আকাশের পটভূমিতে লাল শাপলার সেই অপরূপ দৃশ্য দেখে সৌন্দর্যপ্রিয় যে কেউ অস্ফুটস্বরে হয়তো বলে উঠবেন– বাহ্! লাল শাপলার এমনই হাসি এখন দেখা যাচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত হাইল হাওরের উত্তরাংশের বিভিন্ন বিলে। সব মিলে এ যেন লাল শাপলার রঙে রঙিন এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
হাইল হাওরের এই শাপলার রাজ্যটির অবস্থান হাইল হাওরের মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর লামাপাড়া, যাত্রাপাশা, শহশ্রী ও যতরপুর গ্রামের অংশে গোপলা নদীর তীর ঘেঁষে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত এই এলাকাজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, নৌকায় করে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন লাল শাপলার অভয়ারণ্যে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই এ সময় হাওরের প্রায় শুকিয়ে আসা বিলের অল্প পানিতে শাপলা ফোটে। তবে এ বছর ফুলের পরিমাণ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। হাওরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যেন কেউ লাল কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে। তবে এই সৌন্দর্যের স্থায়িত্ব খুবই কম। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা ফুল ফুটে থাকে, বিকেলে ধীরে ধীরে কলিতে পরিণত হয়। আগামী এক মাস এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
হাওরপারে কথা হয় নৌকার মাঝি লতিফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, অস্থায়ী হলেও আমরা আনন্দের সঙ্গে পর্যটকদের শাপলা বিল ঘুরিয়ে দেখাই। যখন দেখি মানুষের মুখে আনন্দ, ভালো লাগে। পানি কমে গেলে হয়তো আর কাজ পাব না; কিন্তু এই সময়টা আমাদের জন্য বড় সহায়।
আরেক মাঝি খানব মিয়া জানান, সময়ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়ায় তারা পর্যটকদের নৌকায় শাপলার বিল ঘুরিয়ে দেখান। মানুষ যা দেয়, তাই নেন।
শাপলা বিলে আসা কাতারপ্রবাসী সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, শাপলার এমন রাজ্য আগে কোথাও দেখিনি। মনে হচ্ছে, প্রকৃতি যেন একেবারে হাতে করে দেখাচ্ছে তার সৌন্দর্য।
মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আয়মন আলী বলেন, এ বছর বিলে শাপলার পরিমাণ বেশি। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন। লামাপাড়ায় ২০ থেকে ২৫টি নৌকা রাখা হয়েছে; যাতে অল্প ভাড়ায় মানুষ শাপলা বিল ঘুরে দেখতে পারেন।
দর্শনার্থীদের অভিযোগ, হাওরের রাস্তাটি খুবই খারাপ। এতে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ বিষয়ে মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিছলু আহমদ চৌধুরী বলেন, রাস্তার কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে; তবে পুরোটা করা জরুরি। কৃষক, পর্যটক, মৎস্যজীবী– সবাই ভোগেন। আবার হাওরের বিলগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিল ও গোপলা নদী খনন খুবই জরুরি।
শ্রীমঙ্গলের ইউএনও ইসলাম উদ্দিন বলেন, হাইল হাওরের ওই অংশে রাস্তা সংস্কার ও গোপলা নদীর ওপর একটি সেতু স্থাপন করা গেলে যাতায়াত সহজ হবে ।
- বিষয় :
- মৌলভীবাজার
- হাওর
- শীত
- শাপলা
