ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি

ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি
×

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের রাজশাহীর পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটি নগরীর ঘোড়ামারা মহল্লার মিয়াপাড়ায় অবস্থিত সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের বসতভিটা সংরক্ষণ ও ভাঙার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘রাজশাহীর নাগরিকবৃন্দ’র ব্যানারে এ মানববন্ধন শেষে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককেও দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঋত্বিক ঘটক সেই ক্ষণজন্মা বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের একজন, যাঁর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসন পেয়েছে। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘সুবর্ণরেখা’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘অযান্ত্রিক’ প্রভৃতি বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ চলচ্চিত্রকারের এসব চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর একটি বসতভিটা রাজশাহী শহরের মিঞাপাড়ায়।
বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাঁর বসতভিটাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়– এ বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যেভাবে আছে, সেভাবেই থাকবে। কিন্তু গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে হোমিওপ্যাথিক কলেজ কর্তৃপক্ষ আবারও সেখান থেকে ঋত্বিকের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও মুছে ফেলার চেষ্টা করে। এসব ইট খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় শাহ মখদুম নার্সিং কলেজের পাশে পুকুর ভরাট করার উদ্দেশ্যে ফেলা হয়। এ ঘটনায় রাজশাহীর চলচ্চিত্র সংসদকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-যুব সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী সদস্য আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় ও সভাপতি নাট্যকার-চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান কবীর লিটনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন– সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদ হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি উপেন রবিদাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন ‘স্বণনে’র সভাপতি মিজান শেখ, তীর্থক নাটকের সভাপতি আনোয়ার আমজাদ সজল, নারী নেত্রী ঈশিতা ইয়াসমিন, রাজশাহীর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি তাহমিদ জাকি প্রমুখ।

স্মারকলিপির দাবির মধ্যে আছে– ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বসতবাড়ির টিকে থাকা অংশের জমি সংরক্ষণ করে তাতে তাঁর নামে চলচ্চিত্রকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জমি অবমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের সময়ে এ জমি ইজারা পায়। এ ইজারা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং ইজারা বাতিল করে বসতভিটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটার অবশিষ্ট অংশটুকুর চারদিকে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে সংরক্ষিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ‘ঋত্বিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। 
পরে বহুতল ‘ঋত্বিক কমপ্লেক্স’ ভবন নির্মাণ করতে হবে তাঁর পৈতৃক ভিটার আবহকে কেন্দ্র করে। সেখানে গড়ে তুলতে হবে ‘ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ ও ‘ঋত্বিক ফিল্ম ইনস্টিটিউট’, যেখানে চলচ্চিত্রবিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সেখানে থাকবে ঋত্বিক সংগ্রহশালা বা সাংস্কৃতিক জাদুঘর, স্টুডিও, সেমিনার হল, সিনেপ্লেক্স, এক্সিবিশন গ্যালারি, বিভিন্ন ধরনের ল্যাব, গ্রন্থাগার, প্রভৃতি। থাকবে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য বিশ্রামাগারসহ চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা।

আরও পড়ুন

×