ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ভালুকায় নিহত দিপুর বাবার প্রশ্ন

আমার ছেলের কী দোষ ছিল, পুড়িয়ে মারা হলো কেন

থানায় মামলা, গ্রেপ্তার নেই

আমার ছেলের কী দোষ ছিল, পুড়িয়ে মারা হলো কেন
×

ময়মনসিংহের ভালুকায় গণপিটুনির পর নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার দিপু চন্দ্র দাসের স্বজনের আহাজারি। গতকাল বিকেলে তোলা সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ভালুকা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৩১ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমার ছেলের কী দোষ ছিল? তাকে এভাবে পুড়িয়ে মারা হলো কেন? কারও বিশ্বাসে আঘাত করলে দেশে তো আইন ছিল, সেই আইনে বিচার হতো। আমরা গরিব বলেই কি ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারলাম না?’ ময়মনসিংহের ভালুকায় নিহত দিপু চন্দ্র দাসের (২৮) বাবা রবি চন্দ্র দাস বিলাপ করতে করতে এ প্রশ্ন তুলেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ভালুকার জামিরদিয়ার ‘পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামের ছেলে। তিনি দুই বছর ধরে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী ফিরোজ মিয়া জানান, দিপু চন্দ্র দাসের একটি বক্তব্য ঘিরে কারখানার ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর শুরু করলে কর্তৃপক্ষ দিপুকে জনতার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানা থেকে বের করে আনার পর উত্তেজিত জনতা দিপুকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর লাশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে যায়। গাছের ডালে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত আড়াইটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

নিহতের বড় বোন চম্পা দাস এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই শিক্ষিত মানুষ। ধর্ম নিয়ে তার যথেষ্ট জ্ঞান আছে। সে এমন কাজ করতেই পারে না। আবার তার কাছে স্মার্টফোন নাই। আমি শুনেছি উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এ কারণে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কোম্পানির লোকজন কেন ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিল না? তারা কেন তাকে উন্মত্ত জনতার হাতে তুলে দিল?’

নিহতের স্ত্রী মেঘনা রানী তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।’

এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন। তবে রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে বলেন, ‘অভিযোগ থাকলে তা পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। কেন তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো?’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিচার দাবি জামায়াতের
এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেছেন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন

×