পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার সৈকত, হোটেল-মোটেল পূর্ণ
ছবি: ফাইল
ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:৪৩ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:০৫
ইংরেজি বর্ষপূর্তির এখনও ১০ দিন বাকি। এরই মধ্যে পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার সাগরতীর। লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের বালুচর যেন মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ। সাগরের নোনাজল আর বালুচরে পর্যটকরা মেতেছেন আনন্দ ও হৈহুল্লোড়ে। পর্যটকের ভিড়ে জমে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাও।
গতকাল রোববার সরেজমিন দেখা যায়, সাগরতীরের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলীর নোনাজল আর বালুচরে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। সাগরের নোনাজলে আনন্দ আর হৈহুল্লোড়, যা পর্যটকদের উচ্ছ্বাস আর প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধনের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি, বালুচরে ঘুরে বেড়ানো– সব মিলিয়ে যেন এক স্বস্তির ছোঁয়া।
ঢাকা থেকে আসা দিলরুবা হায়দার বলেন, ‘উপভোগ করার জন্য কক্সবাজার এসেছি। সৈকতে লোকসমাগমই আমার ভালো লাগছে। এতে উপভোগ আরও জমেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত মানেই সবাই মিলে উপভোগ করব।’
পাবনা ঈশ্বরদী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক আলিমুর রহমান জানালেন, ‘কক্সবাজারের সৌন্দর্য বরাবরই উপভোগ্য। শীতের সময় এই সমুদ্রতীরের শহর নান্দনিক হয়ে ওঠে। পরিবার নিয়ে সকালেই এসেছি, তিন দিন থাকব।’ তবে কক্ষ ভাড়াসহ অতিরিক্ত খরচের কারণে দুর্ভোগে পড়ার কথা জানিয়েছেন কিছু পর্যটক। গাজীপুরের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা আট বন্ধু এসেছি ঘুরতে। একটা হোটেলে গিয়েছিলাম, তারা কক্ষ ভাড়া চার হাজার টাকা চেয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ সৈকতের কলাতলীতে ছয়তলার ওয়েল পার্ক গেস্ট হাউসে মোট কক্ষ আছে ৪৪টি। গতকাল সকালে দেখা গেছে, কোনো কক্ষ খালি নেই। গেস্ট হাউসটির ব্যবস্থাপক মো. আরিফ বলেন, ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কক্ষই বুকিং শেষ।
পাশের সি পার্ক গেস্ট হাউসে ৭০টি কক্ষ রয়েছে। ৭০ শতাংশই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আশপাশের অস্টার ইকো, ইউনি রিসোর্ট, ডায়মন্ড প্যালেস, সেন্টমার্টিন রিসোর্ট, ইকরা বিচ রিসোর্ট, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল কল্লোল, অভিসার, তারকা হোটেল সি গাল, সায়মান বিচ রিসোর্ট, কক্স টু ডে, লং বিচ হোটেল, ওশান প্যারাডাইসসহ ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও কটেজের অধিকাংশ কক্ষ খালি নেই।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আছে অগ্রিম বুকিং। পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বছরের শেষ ১০ দিনে পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।
হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বছরের শেষ দিকে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি এবং এর পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পর্যটকের চাপ থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে আছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকেই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিয়েছি। পর্যটকদের জন্য হেল্প লাইন নম্বর ০১৩২০১৬০০০০। তিনি বলেন, প্রতিটি হোটেলে সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের ৩৫টি পর্যটন জোনেই মাঠে রয়েছে সাদা পোশাকধারী পুলিশ।
কক্সবাজারে পর্যটকদের স্বাগত জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, পর্যটকরা থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজারমুখী হয়েছেন। তাছাড়া এখন ভরা পর্যটন মৌসুম। এ জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- পর্যটক
- সমুদ্র সৈকত
