হবিগঞ্জ-১ আসন
শিক্ষা-সম্পদে এগিয়ে রেজা, মামলায় সুজাত-শাহজাহান
ড. রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাত মিয়া
হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০৬ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০৭
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। তাঁর বিপরীতে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন একই দলের মনোনয়নবঞ্চিত শেখ সুজাত মিয়া। এই দুজন ছাড়াও এই আসনের অন্য প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে জানা গেছে গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য। যেখানে শিক্ষা ও সম্পদে এগিয়ে থাকা রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীদের মামলার বোঝাই নজরে পড়ে বেশি।
প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া নিজেও অর্থনীতিবিদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিবরিয়া এবার বড় দলের প্রার্থী হয়ে রয়েছেন আলোচনায়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ড. রেজা কিবরিয়ার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকার অস্থাবর এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ ১৫ হাজার স্থাবর সম্পত্তির মালিক তিনি। সব মিলিয়ে টাকার হিসাবে যার পরিমাণ ৫ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
তবে রেজা কিবরিয়ার চেয়ে একেবারে পিছিয়ে নেই তাঁর স্ত্রী। তথ্যমতে, রেজা কিবরিয়ার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৩ হাজার ৬৪৬ টাকা। যার মধ্যে তাঁর স্ত্রী মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি এবং ১২৫ ভরি স্বর্ণের মালিক।
ড. রেজা কিবরিয়া অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ সনদধারী (ডক্টরেট)। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। হলফনামায় বলা হয়েছে, ড. রেজা কিবরিয়ার নগদ টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৬ টাকা। আসবাব ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ২ লাখ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ৫ লাখ ১০ হাজার, পরিবহন বাবদ ১০ লাখ, তিন একর ১০ শতক জমি। যার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার এবং ২৫ লাখ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। বার্ষিক আয়ের মধ্যে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদ ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট সম্পদ ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা। কিছু যৌথ সম্পদের উল্লেখ থাকলেও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থী পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে চারটি মামলায় অব্যাহতি এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
এ ছাড়া আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান আলী বছরে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকার বলে উল্লেখ রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণ। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ৩৭টি মামলার মধ্যে ১৪টি থেকে খালাস, ১৯টি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। আর একটি মামলা এখনও বিচারাধীন। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় শিক্ষক।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পাস। তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় দুই কোটি টাকার। তাঁর ২৯ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। বাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা উল্লেখ আছে। নিজের ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় মোট প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেখিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের নামে ৪২ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার।
