ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের বিবৃতি

চবিতে শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

ঘটনাটিকে ‘মব জাস্টিস’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলের উদ্বেগ

চবিতে শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ
×

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:৪৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে হেনস্তা ও টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামসহ কয়েকটি পক্ষ। এই ঘটনাকে ‘মব জাস্টিস’ আখ্যায়িত করে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজনকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া যায় না। এ কারণেই আমরা বিবৃতি দিয়েছি।’

এর আগে শনিবার দুপুরে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে চাকসুর কয়েক নেতা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষক হাসান মোহাম্মদকে কয়েকজন টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে একজনকে পেছন থেকে তাকে চেপে ধরতে দেখা যায়। এ সময় হাসান মোহাম্মদ চিৎকার করছিলেন। ওই অবস্থায় তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসান মোহাম্মদকে প্রক্টরের কার্যালয়ে নিয়ে সাত ঘণ্টা, সহউপাচার্যের কার্যালয়ে দুই ঘণ্টাসহ মোট ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম উল্লেখ করে, চবি আইন বিভাগের ওই শিক্ষককে হেনস্তা ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। ভিন্নমত বা অতীত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা নির্ধারণের পথ হতে হবে প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া, কোনোভাবেই ‘মব জাস্টিস’ নয়। বিশেষ করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসগুলোতে ‘মব কালচার’ ও শিক্ষক নিপীড়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন চবির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এইচ হাবীব। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা থাকতে পারে; কিন্তু তদন্ত চলাকালীন এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া যায় না। আগে মামলা করা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।’

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজী বিষয়টিকে ‘অপহরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্মতি ছাড়া কাউকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার অধিকার কারও নেই। শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের সঙ্গে যা করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার দাবি করছি।’

চবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমানও এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছেন। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হাসান মোহাম্মদ রোমান বিতর্কিত শিক্ষক হতে পারেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে, তা সমর্থনযোগ্য নয়।’

আরও পড়ুন

×