ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চবিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের

উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের
×

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চেয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদল। এই দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনকে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়।

অন্যদিকে, নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলন’। তারা নিয়োগ বাণিজ্যের ১০০ পৃষ্ঠার তথ্যপ্রমাণও তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে যাওয়ার সময় আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা কাম্য নয়। তবে জরুরি কাজের তাগিদে অন্য গেট দিয়ে আমি ভেতরে প্রবেশ করেছি।’ ছাত্রদলের সময়সীমার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে যেতে চেয়েছিল, তিনি উপস্থিত না থাকায় তারা আমার কাছে এসে বার্তা দিয়ে গেছে। তারা বলেছে, আগামী রোববারের মধ্যে নিয়োগের স্বচ্ছতা প্রকাশ করতে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনের মুখে দুপুর ১টার দিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন মূল গেট দিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে ছাত্রদলের বাধার মুখে পড়েন। পরে তিনি বিকল্প গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-নোমান সমকালকে বলেন, ‘বিগত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যক্তিগত ও দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছে। সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং প্রশাসনের পদত্যাগ ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন শিক্ষা নয়, কেবল নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল ছিদ্দিক বলেন, ‘আমরা অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি। ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে আসছি। প্রশাসন যদি এ সময়ের ভেতরে নিয়োগের স্বচ্ছতা প্রকাশ করতে না পারে, আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন ও গুরুতর অভিযোগ
অন্যদিকে দুপুর ২টার দিকে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলন’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স, নৃবিজ্ঞান, বাংলাদেশ স্টাডিজ, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং ল্যাবরেটরি স্কুলসহ বিভিন্ন বিভাগে যোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠজন ও আওয়ামী লীগের সাবেক সক্রিয় কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামিক ছাত্র মজলিসের শাখা সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে বয়স ও জিপিএর শর্ত শিথিল করে এবং টাকার বিনিময়ে জার্নালে নাম প্রকাশ করে অযোগ্যদের শিক্ষক বানানো হয়েছে। 
নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে দুদকের অভিযান ও কর্মকর্তাদের ব্রিফিং নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সম্মেলনকারীরা। তারা অভিযোগ করেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দুদক কেন ‘অনিয়ম হয়নি’ বলে মন্তব্য করছে? আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুদক স্পষ্ট প্রতিবেদন না দিলে সংস্থাটিকে ‘ব্যর্থ ও স্বেচ্ছাচারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

×