ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

হারুনের পুনরুদ্ধার মিশনে ‘বিদ্রোহী’ সাবু বাধা

হারুনের পুনরুদ্ধার মিশনে  ‘বিদ্রোহী’ সাবু বাধা
×

হারুন-অর-রশিদ, নাসিরুল হক সাবু

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে প্রচার শুরুর পর থেকেই রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত। এক সময়ের বিএনপির এ দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলটির প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ। তবে তাঁর জয়ের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু। 

জামায়াতে ইসলামীর বিশাল ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে চমক দেখাতে চান এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী ওরফে সাইয়েদ জামিলও। 
রাজবাড়ী-২ আসনে মূলত লড়াই হবে বিএনপির দলীয় প্রতীকের সঙ্গে তাদেরই বিদ্রোহীর। তবে জামায়াতের ভোট যদি এনসিপির বাক্সে সংহতি প্রকাশ করে এবং জাতীয় পার্টি তাদের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পায়, তবে ভোটের ফলাফল যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে। সাধারণ ভোটাররা এখন মুখিয়ে আছেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, এ আসনে বিএনপির একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে চলছে 
চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ দলীয় কোন্দল মেটাতে ঐক্যের ডাক দিলেও নাসিরুল হক সাবু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় তাঁর দুশ্চিন্তা কাটছে না। 
হারুন-অর-রশিদের অভিযোগ, ‘সাবু সাহেব আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী ও পেশিশক্তিনির্ভর কর্মীদের ওপর ভর করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।’ তবে নাসিরুল হক সাবু বলেন, ‘জনগণই আমার শক্তি। দল মনোনীত প্রার্থী থাকলেও সাধারণ কর্মীরা আমার সঙ্গেই আছেন এবং আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’

এদিকে দীর্ঘদিন গণসংযোগ করার পর কেন্দ্রীয় জোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়েছে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে। জামায়াতের ভোট এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী কতটা টানতে পারবেন, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় থাকলেও জামায়াত নেতা হারুন এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত এবং এনসিপি প্রার্থীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। পাংশা পৌর জামায়াতের আমির কাজী ফরহাৎ জামিল নিশ্চিত করেছেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এনসিপির পক্ষে কাজ করছেন।
এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও তৈরি হয়নি। গোপনে আমাদের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।’ পরোক্ষভাবে তিনি বিএনপির দিকে আঙুল তুলে বলেন, 
প্রশাসন কিছুটা তাদের দিকে ঝুঁকে গেছে। তবে জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিউল আজম খান এ আসনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে জাপার এ নেতা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমিই জয়ী হবো। তবে আমার ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি এসব বিষয়ে দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাইরেও গণঅধিকার পরিষদের জাহিদ শেখ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল মালেক মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ আব্দুল মালেক, খেলাফত মজলিসের মিনহাজুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
 

আরও পড়ুন

×