সবুজ চায়ের প্রান্তরজুড়ে সোনালি ধানের বার্তা
চুনারুঘাটের বিভিন্ন চা বাগান পরিদর্শন ও বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণাকালে হাত নেড়ে চা শ্রমিকদের অভিবাদনের জবাব দেন তরুণ নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ- সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাধীনতার পর থেকে বরাবরই সিলেট অঞ্চলের চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা বিশেষ করে মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকার বাগানগুলো ছিল আওয়ামী লীগের অপ্রতিরোধ্য দুর্গ। এবার সেই প্রথা ভাঙার বার্তা দিচ্ছেন চা বাগানের বাসিন্দারা। চা শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কেউ একজন তাদের কাছে এসেছেন। তিনি একটি দলের পক্ষে নির্বাচনী বার্তা দিতে এলেও সেই বার্তায় ছিল চা শ্রমিকদের কষ্ট মোছার কথা। রোববার স্থানীয় চা বাগানগুলোতে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির তরুণ নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
একাধিক চা শ্রমিকনেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, চা শ্রমিকরা এর আগে এতো সহজভাবে অন্য কোনো দলের নেতাদের গ্রহণ করেননি। তাদের এবার ধানের শীষের পক্ষে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। সৈয়দ শাফকাত শ্রমিকদের কাতারে নেমে এসে তাদের কষ্ট মোছার আভাস দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের চা বাগানগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা। মূলত এই আসনে জয়-পরাজয়ের মাত্রা নির্ধারণ করে চা শ্রমিকদের ভোটব্যাংক। রোববার সেখানকার ২৩টি বাগানে ধানের শীষের গণসংযোগ চালানো হয়। তবে শুরুতেই প্রচারে না গিয়ে কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা বিএনপি নেতা সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বসে পড়েন শ্রমিকের ভিড়ে। শুনতে শুরু করেন তাদের কথা।
একপর্যায়ে তারেক রহমানের ৩১ দফার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ৩১ দফা যেন অযত্নে থাকা এই চা শ্রমিক গোষ্ঠীর মুক্তির মেন্ডেট। এখান থেকেই শুরু করা হবে তার বাস্তবায়ন। সেটি নির্বাচনের পরে নয়, এখন থেকেই। ক্ষমতায় গেলে সেই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হিসেবে যেন মূল্যায়ন পায় তার চেষ্টা থাকবে।
সৈয়দ শাফকাতের এই আহ্বানে বাগানের শ্রমিকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে তিনি চুনারুঘাট উপজেলার গিলানি দেউন্দি চা বাগানে দিনভর শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চান এবং তাদের নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান। এ সময় তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সালের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
চা শ্রমিক নারী নেত্রী ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাইরুন আক্তার বলেন, সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিক ও চা শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশে উন্নত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পান বলেন, সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ক্রীড়ামোদী মানুষ। সামাজিক কর্মকাণ্ডে চা শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তিনি এ ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন এনেছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা শিল্পের মতো শক্তিশালী একটি ক্ষেত্রকে জাতীয় অর্থনীতির বোঝা নয় আশীর্বাদে পরিণত করতে হবে। সেজন্য সবার আগে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করা আবশ্যক। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি নিজ অবস্থান থেকে এ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
