ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আটকে আছে পাঁচ বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ

আটকে আছে পাঁচ বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ
×

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

নান্দাইল উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ শৌচাগার (ওয়াশ ব্লক) নির্মাণকাজ পাঁচ বছর ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। এতে শৌচাগারের অভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা জীবনের শুরুতে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহার করতে না পারায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা কাজে লাগাতে পারছে না তারা। ফলে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর মধ্যে তিনটি বিদ্যালয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় এসব কেন্দ্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে ভোট গ্রহণকারীদের। সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগ চিঠি চালাচালি ছাড়া কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সমস্যাটি সমাধান করছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে একটি প্যাকেজে চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংগাইল ইউনিয়নের সুরাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজগাতী ইউনিয়নের বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের মধ্য ডেউলডাংরা ভূঁইয়া স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১৫ লাখ করে মোট ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার কদমতলী থানার মেরাজনগর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল্লাহ অ্যান্ড অয়ন এন্টারপ্রাইজ। ২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পেয়ে পাঁচটি বিদ্যালয়ে শৌচাগার নির্মাণকাজ শুরু করলেও পাঁচ বছর ধরে সবগুলোর কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সেই থেকে পাঁচটি বিদ্যালয়ের হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ব্যবহার অনুপযোগী পুরোনো, নোংরা শৌচাগার ব্যবহার করছে। এতে খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের মাধ্যমে পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
২৬ জানুয়ারি বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে শৌচাগারের কংক্রিটের কাঠামোর সঙ্গে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণ বিদ্যালয়ের মাঠে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হোসনা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা খুবই ভোগান্তি পোহাচ্ছে। 

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম জানান, ওয়াশ ব্লকের অভাবে তাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। বারবার তাগাদা দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারছেন না।
কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুরোনো, নোংরা শৌচাগার ব্যবহার করছে।
প্রধান শিক্ষক সবিতা রানী সাহা জানান, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য অফিস এবং ঠিকাদারকে বারবার জানানোর পরও ওয়াশ ব্লকটির কাজ শেষ করানো যায়নি। তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।
রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লকটি শুধু ইটের গাঁথুনিতেই আটকে আছে। প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, তিনি দ্রুত কাজ শেষ করতে উপজেলা, জেলা এবং ঢাকা পর্যন্ত যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
সুরাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লকটির প্রাচীর প্লাস্টার করে ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক 
সাইফুল ইসলাম।

মধ্য দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটিও দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদার রাজু আহমেদ বলেন, কাজ বাবদ কিছু টাকা তুলেছেন। বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে, তাই বরাদ্দ না থাকায় বাকি কাজ শেষ করতে পারছেন না।
গতকাল মঙ্গলবার নান্দাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রোকেয়া পারভিন জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অচিরেই কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তাগাদা দেওয়ার পর তিনি কিছু কাজ করে আবার বন্ধ রাখেন। এ অবস্থায় পুরো টাকা দিলে তো সমস্যা হতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেগম ফজিলাতুননেছার ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থীদের এবং তাদের মাধ্যমে পরিবারে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তিনিও তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

×