মৌলভীবাজারে লোকালয় থেকে মেছোবাঘ আটকে বনবিভাগে হস্তান্তর
ছবি: সমকাল
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:১৮ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৮
মেছোবাঘের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে ওঠেছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের গজিমারা গ্রামের বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময় হানা দিয়ে তাদের হাঁস, মুরগি খেয়ে ফেলতো বাঘটি। এক পর্যায়ে বুধবার রাতে ফাঁদ পেতে ৩ ফুট লম্বা মেছো বাঘটি খাঁচায় বন্দি করে তারা। এরপর সেটিকে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাসখানেক ধরে সদর উপজেলার গজিমারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে হাঁস, মোরগ, ছাগল খেয়ে যেত মেছোবাঘটি। এতে অতিষ্ট হয়ে ওঠেন গ্রামের মানুষ। গত মঙ্গলবার রাতে ওই গ্রামের ইয়াকুব মিয়া ও ফুলরী মিয়া মেছোবাঘটি ধরতে তাদের বাড়িতে হাঁস ও মুরগি ছেড়ে ফাঁদ পাতেন। বুধবার ভোরে খাবার খেতে এসে ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘটি। খবর পেয়ে গ্রামের মানুষের ভিড় জমে। তখন তারা কৌশলে মেছোবাঘটিকে লোহার খাঁচায় বন্দি করেন।
এরপর ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান বনবিভাগ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আটক বাঘটিকে বর্ষিজোড়া বন্যপ্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বনবিভাগ সূত্র জানায়, মেছোবাঘ সাধারণত হাওরাঞ্চলের নিকটবর্তী উঁচু টিলা কিংবা জঙ্গলে বসবাস করে। হাওরর মাছ এ প্রজাতির প্রধান খাবার হলেও কখনও মাংসাশী হিসেবে লোকালয়ে গিয়ে হাঁস, মুরগি খায়। সূত্র আরও জানায়, আটক বাঘটিকে রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় ছাড়লেও সে হাওরপাড়ে চলে যাবে।
বর্ষিজোড়া বিটের (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, মেছোবাঘটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে জাতীয় উদ্যান কিংবা বর্ষিজোড়া বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।
- বিষয় :
- মেছোবাঘ আটক
- মৌলভীবাজার