তিন কোটির ক্লোজার বাঁধে আয়তন বাড়ছে ৩৪ বর্গকিলোমিটার
সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হচ্ছে নতুন চর
সন্দ্বীপের কালাপানিয়ায় নতুন চরকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করতে তৈরি হচ্ছে ক্লোজার বাঁধ সমকাল
আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাগর একসময় কেড়ে নিয়েছিল সন্দ্বীপের ভূখণ্ডের পর ভূখণ্ড। এখন প্রকৃতি আবার তা ফেরত দিচ্ছে। তেমনই একটি ৩৪ বর্গকিলোমিটারের নতুন চর ‘বাটাজোড়া’ সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সন্দ্বীপের বর্তমান আয়তন ৭৬২ বর্গকিলোমিটার থাকলেও নতুন চরটি যুক্ত হওয়ায় আয়তন বেড়ে ৭৯৬ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়াচ্ছে। এর ফলে কালাপানিয়ার নতুন চরে বাড়বে কৃষি চাষাবাদ ও মৎস্য চাষ। কয়েক বছর পর বসতিও স্থাপন করতে পারবে গৃহহীন সাধারণ মানুষ।
সন্দ্বীপের কালাপানিয়ায় নতুন চরটিতে পলি জমে উঁচু হওয়ার জন্য পাউবো ‘স্যান্ড-সিমেন্ট জিওব্যাগ’ দিয়ে একটি ক্লোজার বাঁধ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে বাঁধের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ কাজ আগামী মে-জুনের মধ্যে শেষ হবে। সাত থেকে ১১ ফুট উচ্চতার ক্লোজার বাঁধটি তৈরি হলে মূল ভূখণ্ড থেকে সহজেই নতুন চরে কৃষিকাজ, মহিষ, গরু পালন, মৎস্যঘের তৈরিসহ নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দ্বীপের মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারবে। দ্বীপের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন দুয়ার খুলবে বলে জরিপে উঠে এসেছে। তেমনি আশাবাদী উপকূলীয় বাসিন্দারাও। এ ছাড়া ক্রস ক্লোজার বাঁধ নির্মিত হলে নদীভাঙনকবলিত এলাকা কালাপানিয়ার উপকূলীয় চরের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পাউবো চট্টগ্রাম-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজীর সাইফ আহমেদ বলেন, কালাপনিয়ার পশ্চিম পাশে মেঘনা নদী বহমান। কালাপানিয়া এলাকাটি ভাঙনপ্রবণ। একসময় ভাঙলেও এখন নতুন চর জেগেছে। জেগে ওঠা চরের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এ চরকে স্থায়ীভাবে সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে চরের মধ্যে থাকায় একটি খালে ক্লোজার বাঁধ তৈরি করছি। বাঁধটির দৈর্ঘ্য ২৭৫ মিটার ও প্রস্থ ২০ ফুট। স্যান্ড-সিমেন্ট জিওব্যাগ এবং মাটির তৈরি বাঁধটির কারণে এখানে আগামী দুই-তিন বছর পলি জমে চরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। তখন মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সহজেই এটি মিশে যাবে।
কালাপানিয়া ক্লোজার বাঁধ নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল বলেন, ক্লোজার মূল বাঁধটি মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে। টেকসই করতে বাঁধের উভয় পাড়ে সিমেন্ট ও বালু মিশ্রিত পাঁচ থেকে সাত হাজার ‘স্যান্ড-সিমেন্ট জিওব্যাগ’ বসানো হচ্ছে। বাঁধের উভয় পাশে ২০টি বড় টিউবও বসানো হবে। দীর্ঘ বাঁধটির কোথাও উচ্চতা ১১ ফুট, কোথাও আট ফুট, কোথাও সাত ফুট করে তৈরি করতে হচ্ছে। বাঁধ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে তিন কোটি টাকা। বাঁধের ৬৫-৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধটি টেকসই করতে বাকি কাজ একটু ধীরগতিতে করতে হচ্ছে। আগামী জুনের আগেই কাজ শেষ করা হবে।
কালাপানিয়া ইউনিয়নের বর্তমান আয়তন ১৫ বর্গকিলোমিটার। ৩০ হাজার ২৮৮ জন মানুষ বসবাস করে। নতুন চরের ৩৪ বর্গকিলোমিটার যুক্ত হলে এ ইউনিয়ন বর্তমান আয়তনের চেয়ে তিন গুণ আয়তন বড় হবে। ভূমি বাড়লে স্থানীয় মানুষের জীবনমানও বৃদ্ধি পাবে। জেগে ওঠা এ চরের সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের ফলে চরের স্থায়িত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি ভিটেমাটি হারিয়ে বেড়িবাঁধের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা মানুষগুলোও তাদের আপন নীড় খুঁজে পাবে।
চট্টগ্রামের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ও সাগরবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। উপজেলার কালাপানিয়া, হরিশপুর, রহমতপুর, আজিমপুর, মুছাপুর ও মগধরা ভাঙনপ্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় পুরোনো বেড়িবাঁধকে টেকসই করতে নির্মিত হচ্ছে ব্লক বেড়িবাঁধ। প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্লক বেড়িবাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। এ বাঁধের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকা সংরক্ষণ, লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, ভয়াবহ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও জলাবদ্ধতা থেকে জনগণের জানমাল, সম্পদ রক্ষা, কর্মক্ষেত্রের পরিধি বৃদ্ধি ও পরিবেশের সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
কালাপানিয়ার বাসিন্দা কবির সোহেল বলেন, কালাপানিয়া-বাটাজোড়া ক্রসড্যাম সংযোগ সড়কটি আমাদের বাড়ির পাশে। বাঁধের পশ্চিমাংশে বর্তমান পরিমাপ ২০০ মিটারের দৈর্ঘ্য বাড়ানো প্রয়োজন।
- বিষয় :
- বাঁধ
