ব্যালটে কথা রেখেছে জনগণ, এবার পালা আমাদের: এমপি ফয়সল
সৈয়দ মো. ফয়সল চৌধুরী
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৩:২২
‘ভোট বিপ্লবে আমার বিপুল বিজয় নিশ্চিত করেছে মাধবপুর ও চুনারুঘাটের মানুষ। বাগান-বনে ঘাম ঝরানো শ্রমিক-মজুর তাদের কথা রেখেছে। এবার পালা আমার।’
এমনটাই জানিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল চৌধুরী। এমপি হিসেবে শপথ নিয়েই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু করেছেন সৈয়দ ফয়সল। এ কাজে তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে পাশে রয়েছেন ছেলে শাফকাত চৌধুরী।
একবার উতরে গেলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আর দৃষ্টি থাকে না অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতার। দেশীয় রাজনীতির এমন প্রচলিত অপসংস্কৃতির বিপরীতে ভিন্ন বাস্তবতা দেখছে হবিগঞ্জ-৪ আসনের মানুষ। শপথ গ্রহণের দিন থেকে মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তৎপরতা শুরু করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল চৌধুরী।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত সৈয়দ মো. ফয়সল চৌধুরী। এরপর শপথ গ্রহণের দিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু করেন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। কথামতো সেটি শুরু করেন চা শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে।
চুনারুঘাটের চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, অন্য নেতারা প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিলেন আঙিনায়। কিন্তু এমপি ফয়সল চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শাফকাত চৌধুরী গিয়েছিলেন তাদের দ্বারে দ্বারে। তাদের একজন হয়ে শাফকাত চৌধুরী দেখেছেন তাদের সমস্যা। তাতে আস্থার সঙ্গে তাঁকে ভোট দেয় শ্রমিকরা। বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিতের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এমপি হিসেবে শপথ নেন ফয়সল চৌধুরী। বিকেলেই তাঁর নির্দেশে মাধবপুর চা বাগানে অবস্থিত নাট মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু হয়।
এর ছয় দিনের মাথায় মঙ্গলবার চাকলাপুঞ্জি বাগানের শ্রমিক পরিবারের চার শতাধিক সদস্যের সুপেয় পানির উৎস হিসেবে চালু করা হয় গভীর নলকূপ। পুঞ্জির চা শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া ছিল সুপেয় পানি। ছড়া আর ডোবার দূষিত পানি পানের কারণে এ বাগানের শ্রমিক পল্লিতে প্রবল স্বাস্থ্যঝুঁকি ছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে গভীর নলকূপ ও পানি সরবরাহের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাগানে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হয় এমপির নির্দেশে।
স্থানীয়রা জানান, এই পুঞ্জির চা শ্রমিকদের জন্য আজ উৎসবের দিন। ধারে-কাছে বিশুদ্ধ পানির কোনো উৎসই ছিল না যেখানে, সেখানে শ্রমিকদের দুয়ারে এখন সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।
জানা যায়, বাগানটি উঁচু এলাকায় হওয়ায় সেখানে পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট চলে। কোনো বিশুদ্ধ পানির উৎস না থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলোকে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। অধিকাংশ সময় ছড়ার জীবাণুযুক্ত পানি পান করতে হতো সবার।
সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে সৈয়দ মো. ফয়সল চৌধুরীর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ সরেজমিন বাগানটি পরিদর্শন করেন। শ্রমিকদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। পরে তাঁর নির্দেশে সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারের মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
চা শ্রমিক হৈমন্তি সাঁওতাল জানান, আগে তাদের অনেক দূর থেকে পানি আনতে হতো। অনেক সময় সেই পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। এখন নলকূপ হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন। অন্য শ্রমিকরাও আনন্দিত এই সুবিধা পেয়ে।
এ বিষয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের শ্রমিকদের পানির কষ্ট দেখে বিব্রত ছিলেন তিনি এই যুগেও মানুষকে ছড়ার পানি খেতে হচ্ছে দেখে। বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই প্রথমেই তিনি বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে গভীর নলকূপ স্থাপন করান। চা শ্রমিকসহ জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য।
সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। তাদের ভোটেই আমি এমপি। মাধবপুর ও চুনারুঘাটের ২৩টি চা বাগানে নানা সমস্যা রয়েছে। যার কারণে অনেক পিছিয়ে পড়েছে চা শ্রমিকরা। তাদের সামনে এগিয়ে এনে চা শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি।
