ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জমিসহ কলেজ বিক্রির অভিযোগ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জমিসহ কলেজ বিক্রির অভিযোগ
×

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের সামনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গোপনে কলেজ ভবন ও জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রতিবাদ করায় দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী। পরিস্থিতি সামাল দিতে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্য।

কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ৮ শতক জমি জায়েদা খাতুন তাঁর ছেলে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীকে লিখে দেন। এর তিন মাস পর ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি একই জমি জায়েদা খাতুন তাঁর স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজে দান করেন। এই দানপত্রের দলিলে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন হোছেন আলী চৌধুরী ও তাঁর ভাই শওকত আলী চৌধুরী।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর এবং সরকারি অর্থায়নে তিনতলা ভবন নির্মিত হওয়ার সুযোগে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর এক কোটি ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় জমি ও ভবনটি বিক্রি করে দেন অধ্যক্ষ হোছেন আলী। যা কিনে নেন তারাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী আবুল ফজরের স্ত্রী আয়শা আক্তার।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হান্নান তালুকদারসহ দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল নাসরিন বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তারা জানতেন জমিটি কলেজের। অধ্যক্ষ এমন প্রতারণা করবেন কল্পনাও করতে পারেননি তারা। তাঁর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি সায়েদুল ইসলাম মণ্ডলের ভাষ্য, অধ্যক্ষকে শিক্ষানুরাগী ভেবেছিলেন তারা, কিন্তু তিনি আড়ালে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীর চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানিতে বসলেও কলেজ ভবন ও জমি বিক্রির ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি অধ্যক্ষ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরী বলেন, দলিলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি। নিয়োগ বাণিজ্য ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়ে যান তিনি।
জমির ক্রেতা আয়েশা আক্তারের দাবি, কেনার সময় বলেছিলেন ভবন নিয়ে কী করবেন? তিনি সে সময় অধ্যক্ষ জানিয়েছিলেন, কলেজের ভবন ভেঙে জায়গাটি কয়েক দিনের মধ্যে বুঝিয়ে দেবেন। সে অনুযায়ী ভবনের সামনে থাকা দোকানের ভাড়াও প্রতি মাসে বুঝে নিচ্ছিলেন তিনি। পরে বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা ভবনে তালা দিতে গেলে বাধা দিয়ে জানান জমিটি কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন এই ক্রেতা।
তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, জমিটি আগে অধ্যক্ষকে এবং পরে কলেজকে লিখে দেওয়া হয়েছিল– এই আইনি জটিলতা ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে 
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হোছেন আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে নিয়োগ বাণিজ্য ও নারী হেনস্তার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×