ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চাটমোহরে হাটবাজার ইজারা

দরপত্র দাখিল নিয়ে জামায়াত নেতাকে পেটাল বিএনপি কর্মীরা

দরপত্র দাখিল নিয়ে জামায়াত নেতাকে পেটাল বিএনপি কর্মীরা
×

ফাইল ছবি

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৩:৩৪

হাটের টেন্ডারের দরপত্র দাখিল করা নিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল উপজেলা পরিষদের ডাকা হাটবাজার ইজারার টেন্ডারের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল দাখিল করতে যান। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে তাঁর দরপত্রটি ফেলেন।

এ সময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলা করে। সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের নিবৃত করে নিচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর কিছু সময় পর ইউএনও অফিস থেকে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বের হচ্ছিলেন হাবিবুর রহমান। তখন ‘জামায়াতের সেক্রেটারি এখানে কেন’ বলেই তাঁকে মারধর শুরু করে বিএনপি কর্মীরা। সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্য ও পুলিশ শুধু বাঁশি বাজিয়েছে। তারা হামলাকারীদের প্রতিহত করতে পারেনি। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ থেকে দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিব।

এ ঘটনার পর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি ইউএনওর কাছে এসেছিলাম এলাকার একটি সমস্যা-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। দরপত্র দাখিলে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অফিসে কাজ শেষে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সবাই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় এমপি ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

হামলাকারীদের মধ্যে মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবলু মিস্ত্রি, শাহীন আলম, সোহেল রানা, বিএনপি নেতা জাবের মোল্লা, জিয়া মুন্সী, রিন্টু, যুবদল নেতা শাহীন, ছাত্রদল নেতা ইমনসহ শতাধিক নেতাকর্মী জড়িত বলে জানিয়েছেন হাবিবুর রহমান।

অভিযুক্ত লিখন বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কয়েকজন গিয়েছিলাম শিডিউল দাখিল করার শেষ সময় জানার জন্য। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপেলেদের সঙ্গে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা, তাও জানতাম না। পরে শুনেছি। হামলায় আমি জড়িত নই। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা একটা ঘটেছে। ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। টেন্ডার দাখিল ও খোলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন। তার সঙ্গে কথা বলেন।’ পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল– জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘কঠিন প্রশ্ন করেছেন তো, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, ধন্যবাদ।’

এদিকে ঘটনার পর পাবনা-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আলী আছগার বিকেল ৪টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। চাটমোহরের সাড়রা গ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকারি দলের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এ ধরনের ন্যক্কারজনক আচরণ কাম্য নয়। ইউএনও অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে, দেখলেই বোঝা যাবে কারা এতে জড়িত। প্রশাসনকে বলব সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’ সংবাদ সম্মেলনে চাটমোহর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, নায়েবে আমির তোরাব আলী বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×