নদীর তীরে অপরিকল্পিত মার্কেট নির্মাণ, ধসে যাচ্ছে দোকান
সুনামগঞ্জ শহরের জেল রোডে সুরমা নদীর তীরে নির্মিত মার্কেটটি দেবে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা ছবি সমকাল
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
দরপত্র নেই, প্রকৌশলীর নকশাও নেই, পাইলিং নেই, তবু কোটি টাকার লেনদেনে জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক দোকানকোঠা। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকায় ময়লার স্তূপের ওপর নির্মিত টিনশেডের এই মার্কেটটি এখন ধসে পড়ার মুখে। শহরের জেল রোড এলাকায় সুরমা নদীর পারে নির্মিত মার্কেটের অন্তত ৩০টি দোকানকোঠা দেবে গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিকল্পনাহীন নদীর পারে মার্কেট নির্মাণ করায় দোকানকোঠাগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে। এতে তাদের (দোকানি) পথে বসার উপক্রম হয়েছে। দোকানিদের ভাষ্য, তৎকালীন পৌর মেয়র ও সাবেক জেলা প্রশাসকের সম্মতিতে স্থানীয় পোলট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম প্রকৌশলীর পরামর্শ ছাড়াই মার্কেটটি নির্মাণ করেন। পরে মার্কেটের দোকানগুলো বিক্রি করা হয়। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক দোকানি এখনও দোকানের দলিল বুঝে পাননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পারে দুর্বল পিলারের ওপর নির্মিত দোকানগুলোর দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক দোকান ধসে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একজন দোকান মালিক জানালেন, মার্কেট নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলামকে টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছেন তারা। বিষয়টি পৌরসভার তৎকালীন মেয়র নাদের বখত ও প্রাক্তন জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীরও জানা ছিল।
অপর ব্যবসায়ী মো. আলী নুর বললেন, এই মার্কেট চালু হবার পরপরই দোকানকোঠার দেয়াল ধসে দুইজন আহত হয়েছেন।
সরোয়ার হোসেন নামের এক দোকানি জানান, মার্কেটের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আতঙ্কে আছেন তারা। ব্যবসায়ী স্বপন দাস বলেন, দোকানকোঠাগুলো দেবে যাচ্ছে। ভয় হচ্ছে, কখন জানি মার্কেটের সব ভেঙে যায়। সবাই আতঙ্কে আছে।
বাজারের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মার্কেটটি ময়লার স্তূপের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটের নিচে পাইলিং করা হয়নি। একেবারে দুর্বল কাজ হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ধসে দুর্ঘটনা ঘটবে।
কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মিয়া বললেন, মার্কেটটি নদীর পারে নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটের কাজও ভালো হয়নি। ময়লার স্তূপের ওপর মার্কেট নির্মাণ করায় ফাটল ধরেছে। ধসে যাচ্ছে।
স্থানীয় পোলট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসনের পরামর্শে দোকানগুলো তৈরি হয়েছে। এখানে তাঁকে দোষারোপ করার মতো কিছুই করেননি তিনি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বললেন, এই মার্কেট পৌরসভার মালিকানাধীন নয়। এটি জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানের জায়গা। এখানে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাদের অফিস থেকে কোনো ধরনের দরপত্র আহ্বানও করা হয়নি। পৌরসভা কোনো রাজস্বও পায় না। তিনি বলেন, এটি বর্তমানে ভূমি অফিস দেখভাল করে।
সদর তহশিল অফিসে কিছুদিন আগেও দায়িত্বে ছিলেন তহশিলদার আক্কাস মিয়া। তিনি জানালেন, এই মার্কেটের জমি জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানের। দোকানকোঠা লিজ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, এসি ল্যান্ড অফিসে এই মার্কেটের ফাইল দেখাশোনা করেন সুনীল দাস নামের একজন স্টাফ। তিনি জানান, এই মার্কেটের ১৫৭টি দোকানকোঠা লিজ দেওয়া হয়েছে। কারও কাগজপত্র না পাবার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। ওখানে প্রতি শতকে বছরে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী একটি দোকানকোঠায় যত ভাড়া আসে, দোকানিদের তা দিতে হয়। এবার ভাড়া বেড়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফোন রিসিভ না করায় এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক অসীম কুমার বণিক বললেন, মার্কেটটি নির্মাণ ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জানা নেই।
- বিষয় :
- নদীরক্ষা
