ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অসময়ে যমুনা নদীর ভাঙন বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

অসময়ে যমুনা নদীর ভাঙন বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ
×

অসময়ে ভাঙছে যমুনা নদীর পার। বিলীন হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের হুদার মোড় এলাকার ১০০ মিটার। গত বুধবার তোলা সমকাল

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে দেখা দিয়েছে যমুনার ভাঙন। ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের হুদার মোড়ের অন্তত ১০০ মিটার। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খোলাবাড়ী, চরমাগুরীহাট, হাজারীগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন। প্রতিদিন হাটবাজার থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজে উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয় এই সড়ক দিয়ে। সড়কটি যমুনা নদীতে ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, হাজারীগ্রামের উত্তর পাশে এবং খোলাবাড়ীর দক্ষিণ পাশে হুদার মোড় এলাকায় সড়কটির অন্তত ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। মানুষজন খানিকটা দূরে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ভেঙে চলাচল করছে। সাইকেলের মতো দুই চাকার যান কষ্ট করে পারাপার করা গেলেও ইজিবাইক, ভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙা সড়কের দুই পাশে গণপরিবহন থামিয়ে রেখেছেন চালকরা। যাত্রীরা সড়কের এক পাড়ে নেমে হেঁটে অন্য পাড়ে গিয়ে আবার গণপরিবহনে উঠে চলাচল করছেন। এতে একদিকে তাদের অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
এলাকাবাসী জানান, চলতি বছর শুষ্ক মৌসুমেও এই স্থানে যমুনার ভাঙন বন্ধ ছিল না। ক্রমাগত ভেঙেছে হাজারীগ্রাম, হুদার মোড়সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বিলীন হয়েছে চরডাকাতিয়াপাড়া হাজারীগ্রামের ফসলি জমি। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন চেপেছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের দিকে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে এ সড়কের অন্তত ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। তারা জানান, বিগত বর্ষা মৌসুমে চরডাকাতিয়াপাড়া হাজারীগ্রামের অনেক বসতবাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভেঙেছে চরডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখন ভাঙনের মুখে রয়েছে এ গ্রামের কয়েকশ বসতবাড়ি, কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি, কমিউনিটি ক্লিনিক, খোলাবাড়ী হাই স্কুল, চরমাগুরীহাট দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনা।

খোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে যমুনা নদীর ভাঙন চলছে। চলতি বছর অসময়ের ভাঙনে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
চরডাকাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়া জানান, অন্যান্য বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর ভাঙন দেখা দেয়। এ বছর অসময়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। হাজারীগ্রাম থেকে উত্তরে হুদার মোড় পর্যন্ত ক্রমাগত ভাঙছে। ইতোমধ্যে শুষ্ক মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়েছে অনেক কৃষক পরিবার। বছরের পর বছর নদী ভাঙলেও প্রতিকার মিলছে না। শুধু আশ্বাসের বাণী শুনতে হচ্ছে তাদের।

চরমাগুরী হাটের মোতালেব হোসেনের ভাষ্য, নদী ভাঙনে এ অঞ্চলের শত শত মানুষ আজ নিঃস্ব। অনেকেই বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। এ বছর অসময়ে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী সড়কের কিছু অংশ। ভাঙন রোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই সড়কটির অন্তত ৫০০ মিটার নদীতে চলে যাবে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁর।
জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান জানান, ভাঙন রোধে যমুনা নদীর ওই স্থানে দ্রুত প্রকল্প নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×